ভ্যাট সংস্কার ও ন্যূনতম কর প্রত্যাহারের দাবি জাপান-বাংলাদেশ চেম্বারের
জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট ও কর ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আদর্শ ভ্যাট হার প্রবর্তন, লোকসানি কোম্পানিগুলোর জন্য ন্যূনতম কর প্রত্যাহার এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কর্পোরেট কর কমানো।
আজ রোববার (১০ মে) ঢাকায় আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রফি ভূঁইয়া বলেন, 'বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতির চাপ, ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন ব্যয় এবং এলডিসি পরবর্তী উত্তরণের প্রস্তুতির মাঝে বাংলাদেশ একটি সংকটময় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।'
এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, 'জাতীয় বাজেটে কেবল রাজস্ব সংগ্রহের দিকে মনোনিবেশ না করে বিনিয়োগ, শিল্প সক্ষমতা এবং আর্থিক আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। চেম্বারের অন্যতম প্রধান সুপারিশ ছিল আদর্শ ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করা এবং একটি সমন্বিত ভ্যাট কাঠামো প্রবর্তন করা।
জেবিসিসিআই-এর মতে, বিদ্যমান বহু-স্তর বিশিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা পরিপালন খরচ বৃদ্ধি করে, জটিলতা তৈরি করে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কর কর্তৃপক্ষের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে।
চেম্বারের পক্ষ থেকে বলা হয়, 'একটি সরলীকৃত ভ্যাট কাঠামো ব্যবসা করার সহজলভ্যতাকে উন্নত করবে, বিশেষ করে এসএমই এবং উদীয়মান শিল্পগুলোর জন্য।'
এছাড়া, ব্যবসায়িক লোকসানের মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোট প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত ন্যূনতম কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে জেবিসিসিআই। চেম্বারের যুক্তি হলো, বর্তমান ব্যবস্থা কোম্পানিগুলো লাভজনক না হলেও তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে এবং ব্যবসার স্থায়িত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তারা আরও প্রস্তাব করেছে যেন লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে উৎস করের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয় এবং উৎসে কর্তিত অতিরিক্ত কর ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চেম্বারের সাধারণ সম্পাদক মারিয়া হাওলাদার বলেন, 'ভ্যাট এবং আয়কর ফেরত প্রদানে বিলম্ব অনেক সময় ব্যবসায়িক তারল্য সংকট সৃষ্টি করে এবং কার্যকরী মূলধন আটকে দেয়।
এই সমস্যা সমাধানে চেম্বার একটি দ্রুততর, স্বয়ংক্রিয় এবং সময়োপযোগী রিফান্ড ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছে, যা ব্যবসার আত্মবিশ্বাস ও কর পরিপালন বৃদ্ধি করবে। দেশি-বিদেশি উভয় বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে বেসরকারি খাতের কর্পোরেট করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে এই সংগঠনটি।
তারা উল্লেখ করেছে যে, অনেক প্রতিযোগী অর্থনীতি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নিম্ন কর্পোরেট কর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যেখানে বাংলাদেশের তুলনামূলক উচ্চ করের বোঝা শিল্প সম্প্রসারণ এবং মূলধন প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
জেবিসিসিআই সরবরাহকারী, উপ-ঠিকাদার, সেবাপ্রদানকারী, ভাড়ার পেমেন্ট এবং বিদেশি পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য উৎসে কর এবং উইথহোল্ডিং করের হার যুক্তিসঙ্গত করার সুপারিশ করেছে।
চেম্বারের মতে, অতিরিক্ত অগ্রিম এবং উইথহোল্ডিং ট্যাক্স কার্যকরী মূলধনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক খরচ বাড়িয়ে দেয়।
শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে শিল্প কাঁচামাল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা পণ্য এবং উৎপাদন উপকরণের ওপর কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, অগ্রিম কর এবং অগ্রিম আয়কর কমানোর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়াও, জেবিসিসিআই তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, নির্মাণ, কৃষি এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব করেছে।
এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে রপ্তানির ওপর কম উৎস কর, কৌশলগত শিল্পের জন্য ট্যাক্স হলিডে, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিনিয়োগের জন্য বিশেষ প্রণোদনা।
