আগামী বাজেটে ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান
আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এর আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর ও ভ্যাট ফাঁকি রোধে সিগারেটসহ অন্যান্য প্যাকেটজাত পণ্য বিক্রিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
এছাড়া, যেসব কোম্পানি কর পরিশোধ করছে না, তাদের চিহ্নিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)-এর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। মৃত ব্যক্তি এবং করযোগ্য আয় নেই—এমন টিআইএন বাতিলের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, "সরকার কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে চায়, তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা কঠিন। টাকার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে শিল্প-কারখানাগুলো চাপের মধ্যে রয়েছে এবং পুনঃমূলধনীকরণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো সহজ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।"
তিনি আরও জানান, আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো যেত। বাজেটে এসএমই খাত ও স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
এনবিআর সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, "আগের উদ্যোগকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং নীতিনির্ধারণে জনস্বার্থের প্রতিফলন নিশ্চিত করা হবে।"
ভ্যাটের আওতা বাড়ানো প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, "বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএন-এর মধ্যে মৃত ব্যক্তি ও করযোগ্য আয় নেই—এমন টিআইএন বাতিল করা হবে। যারা সক্রিয় থাকবেন, তারা রিটার্ন জমা না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাবেন।"
বর্তমানে ভ্যাটদাতার সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভ্যাট ফাঁকি কমাতে আগামী বাজেটে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড যুক্ত করা হবে, যা স্মার্টফোনে স্ক্যান করে ভ্যাট পরিশোধের তথ্য যাচাই করা যাবে। কেউ ভ্যাট ফাঁকির তথ্য দিলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।
তিনি বলেন, "পর্যায়ক্রমে এটি সব প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে চালু করা হবে।"
আগামী অর্থবছরে ট্রান্সফার প্রাইসিং কমিশনারেট গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত আবগারি শুল্কমুক্ত রয়েছে, যা বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
