ফেনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মাসুদ চৌধুরী কারাগারে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই সঙ্গে তাকে এক দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। এদিন সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি এই মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের পাশাপাশি এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করা হয়।
শুনানি শেষে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিন বিকেলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। এর আগে গত ৭ এপ্রিল তাকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় এতদিন তাকে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি যখন সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সাভারের ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ছিলেন।
পরবর্তীতে তাকে 'গুরুতর অপরাধ ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি'র প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছিল এবং এর কিছুদিন পরই ২০০৮ সালের ২ জুন তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে নিযুক্ত করা হয়।
এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মাসুদকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। ২০০৮ সালের ৮ জুন তাকে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত করে তৎকালীন সরকার। পরে তিনি দেশে ফিরে ফেনী-৩ আসন থেকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
