শিক্ষার্থীদের জন্য ইলেক্ট্রিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার
দেশে ইলেক্ট্রিক যানবাহনের (ইভি) ব্যবহার উৎসাহিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য আমদানিকৃত বাসের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করেছে সরকার। গত ২৮ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ইভি আমদানির ওপর কাস্টমস ডিউটি, ভ্যাট এবং অন্যান্য করসহ মোট করভার প্রায় ৬২ শতাংশ। তারা মনে করছেন, এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহার করায় শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য বাস আমদানিতে বড় ধরনের গতি আসবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইভি-কে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের যানবাহন সহজে সহজলভ্য করা যায়।"
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে। এমনকি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্টুডেন্ট ট্রান্সপোর্ট পুলে ব্যবহারের জন্য চুক্তিবদ্ধ থাকলেও এই সুবিধার আওতায় ইভি বাস আমদানি করা যাবে।
তবে এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পেতে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আমদানিকৃত বাসগুলো অবশ্যই সম্পূর্ণ নতুন হতে হবে এবং সেগুলোতে অন্তত সাত বছর বা তিন লাখ কিলোমিটারের ওয়ারেন্টি থাকতে হবে।
এছাড়া বাসে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকতে হবে এবং সেগুলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে স্কুল, কলেজ বা স্টুডেন্ট ট্রান্সপোর্ট বাস হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে। পাশাপাশি, আমদানির পর পাঁচ বছরের মধ্যে এই বাসগুলো বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।
