বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২৫টি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্নততর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২৫টি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আবুল কালাম লিখিত প্রশ্নে জানতে চান- দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের চারটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থায় যৌথ কর্ম পরিকল্পনাগুলো কী কী?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) একটি যৌথ ১৮০ দিনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।'
তিনি বলেন, 'পরিকল্পনাটির মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা দান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্নততর পরিবেশ গড়ে তোলা, উন্নত লজিস্টিকস ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবা সহজ করা। এ পরিকল্পনায় ৩টি পিলারের আওতায় মোট ২৫টি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ উন্নত অবকাঠামো, ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ সহায়তা এবং ২০ শতাংশ বিনিয়োগ উন্নয়ন-সংক্রান্ত উদ্যোগ।
তারেক রহমান বলেন, ১. উন্নত অবকাঠামো: এই পিলারের আওতায় লজিস্টিকস ও বিনিয়োগের সহায়ক ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন- বন্দর আধুনিকায়ন- আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি, পণ্য খালাসে সময় হ্রাস এবং সামগ্রিক লজিস্টিকস ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল- বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনভিত্তি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে ৫০টির অধিক শিল্প প্লট প্রস্তুতি- দ্রুত শিল্প স্থাপন, বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত জমি সরবরাহ এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করবে। বিকল্প জ্বালানি উদ্যোগ- জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, শিল্প উৎপাদনের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বেসরকারিকরণ ও অ্যাসেট মনিটাইজেশন-দুস্থ ও অব্যবহৃত সরকারি সম্পদের অধিক উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়াবে। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন- বিশেষায়িত শিল্প বিনিয়োগ, রপ্তানিমুখী উৎপাদন এবং কৌশলগত খাতে শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২. বিনিয়োগ সহায়তা: এই পিলারের অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বিনিয়োগসেবা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেমন: বিনিয়োগ উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর একীভূতকরণ-সমন্বিত সেবাদান, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের বৈঠক- নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের মতামত অন্তর্ভুক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারে গতি আনবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অগ্রগতি-দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রপ্তানি সুযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, চীনে বিডা অফিস চালু-সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ, বিনিয়োগ প্রচার এবং চীনা বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। বাংলাবিজের ব্যবহার সম্প্রসারণ-সরকারি সব বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সেবা এক স্থান হতে প্রদানের লক্ষ্যে সমন্বিত ডিজিটাল গেটওয়ে (বাংলাবিজ) লাইসেন্স, পারমিট ও বিনিয়োগসেবা গ্রহণকে সহজ, দ্রুত ও অধিক স্বচ্ছ করবে। জটিল বিনিয়োগ সমস্যা সমাধানে এফডিআই ক্যাম্পেইন/ফাস্ট-ট্র্যাক উদ্যোগ-বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধান, আস্থা বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত করবে।
তিনি আরও বলেন, ৩. বিনিয়োগ উন্নয়ন: এই পিলারের আওতায় লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ আহরণ, খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধি এবং সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্র বিকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন- ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ পাইপলাইন-সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্প দ্রুত অগ্রসরকরণ এবং বাস্তব বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ব্লু ইকোনমি উন্নয়ন উদ্যোগ-সামুদ্রিক সম্পদভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, নতুন খাত উন্নয়ন এবং উপকূলীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
দেশব্যাপী শিল্প ম্যাপিং-অঞ্চলভিত্তিক শিল্প সম্ভাবনা শনাক্তকরণ, পরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগ নির্দেশনায় সহায়তা করবে। ১.২৫ শতাংশ এফডিআই প্রণোদনা স্কিম-বিনিয়োগ আহরণে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উৎসাহ সৃষ্টি করবে এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, এই ১৮০ দিনের পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত পদক্ষেপসমূহ এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ, সরকারি সেবা সহজীকরণ, লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।
