ভোটার নিবন্ধনে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করল ইসি
নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বে শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন আবেদনকারীদের জন্য এসএসসি বা সমমানের সনদ ডাটাবেজে বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ বুধবার (২৯ মে) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলাম এই বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভোটার নিবন্ধনের সময় ফরম-২, ফরম-৩, বিশেষ তথ্য ফরম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জন্ম সনদ, এসএসসি বা সমমান সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), পাসপোর্ট এবং আবেদনকারীর স্বাক্ষরিত প্রুফ কপি সংযুক্ত করার নিয়ম রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জন্মতারিখ সঠিক কি না, তা যাচাইয়ের জন্য এসব সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কমিশন লক্ষ্য করছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা তার বেশি হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসগুলো এসএসসি বা সমমানের সনদ ডাটাবেজে সংযুক্ত করছে না। এর ফলে পরবর্তীতে ভোটাররা যখন এনআইডি সংশোধনের আবেদন করছেন, তখন তথ্য যাচাইয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়ছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা অস্বীকার করায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে।
এই বিদ্যমান সমস্যা ও জটিলতা এড়াতে নির্বাচন কমিশন তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে:
প্রথমত, নিবন্ধনের সময় আবেদনকারী মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বে পাস হলে তার এসএসসি বা সমমানের সনদ অবশ্যই ডাটাবেজে সংযুক্ত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, আবেদনকারী উচ্চমাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী হলেও তার এসএসসি বা সমমানের সনদ বাধ্যতামূলকভাবে ডাটাবেজে যুক্ত করতে হবে। একই সাথে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্রের হার্ড কপি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, সিনিয়র জেলা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিস পরিদর্শন এবং নমুনাভিত্তিক তদারকির মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
