শহরাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে একনেকে ১,১৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)- সভায় শহরাঞ্চলে সহজপ্রাপ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে 'এক্সপ্যান্ডিং অ্যাক্সেস টু ইন্টিগ্রেটেড হেলথ কেয়ার ফর দ্য আরবান পপুলেশন'- শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৫৭.০৬৫৩ কোটি টাকা।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহরাঞ্চলে একটি 'হাব-স্পোক'-মডেলের আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা কেন্দ্রগুলোকে সংযুক্ত করা হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে মোট ১৭০টি 'সিটি হেলথ সেন্টার' স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রে দুই শিফটে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
এছাড়া, প্রয়োজনীয় ওষুধের অন্তত ৮০ শতাংশ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শতভাগ মানদণ্ড বাস্তবায়ন, এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্যব্যবস্থা ডিএইচআইএস-২ প্ল্যাটফর্মে শতভাগ সংযুক্তিকরণ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য খাতের এই প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি (জিওবি) অর্থায়ন ২০৮ দশমিক ৪০০২ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক থেকে ৯৪৮ দশমিক ৬৬৫১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।
প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে থাকবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
প্রকল্পটির পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে দ্রুত নগরায়নের ফলে শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নগর জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা আরও বাড়বে। কিন্তু শহরাঞ্চলে সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো এখনও সীমিত, ফলে মানুষকে বেসরকারি সেবার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর ম্যাপিং, জনবল ও অবকাঠামো উন্নয়ন, মনিটরিং জোরদার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এতে নগরবাসীর জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
একনেক ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন ৫টি, সংশোধিত ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি ৪টি প্রকল্প রয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের 'এক্সপ্যান্ডিং অ্যাক্সেস টু ইন্টিগ্রেটেড হেলথ কেয়ার ফর দ্য আরবান পপুলেশন'- প্রকল্প উল্লেখযোগ্য, যা শহরাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাস্টমস আধুনিকায়ন প্রকল্প, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ ও সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট চারটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, সীমান্ত সড়ক উন্নয়ন এবং বরিশাল অঞ্চলের একাধিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।
সভায় আরও জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রীর পূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার নিচে ৩৩টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে সড়ক উন্নয়ন, নদী পুনঃখনন, কৃষি গবেষণা, আইটি অবকাঠামো, বিদ্যুৎ বিতরণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কৃষি ও প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
