তনু হত্যাকাণ্ড: ৩ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আমান এই আদেশ দেন। মামলার বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই-এর পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিকে আজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় অন্য কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তনুর কাপড় থেকে সংগৃহীত ডিএনএ-র সাথে আসামিদের ডিএনএ ক্রস ম্যাচিং করার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এর আগে গত বুধবার বিকেলে আসামিকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের ১০ বছর পর গত ৬ এপ্রিল তিনজনের ডিএনএ ম্যাচিং করার নির্দেশ দেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হয়ে আবেদন করলে তাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআই-কে চিঠি দেওয়া হয়। এরপরই ৬ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের বিষয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই বিচারক সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ ম্যাচ করার নির্দেশ প্রদান করেন।
সেদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেছিলেন, 'আগেই তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়েছিল। কিন্তু এগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত সন্দেহভাজন ওই তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই তিনজন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।'
ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছিলেন, মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিবিআই-এর তদন্তকারী দল। সে সময় তারা মামলার বাদী ও তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এই চাঞ্চল্যকর মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ, পরবর্তীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করলেও কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআই-এর ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেন। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম মামলার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
