নাগরিকদের সমান অধিকারে বিশ্বাসী বিএনপি, লক্ষ্য ‘রংধনু জাতি’ গঠন: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান সব নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহার করার মধ্যেই সমস্যা রয়েছে। আমি সংখ্যালঘু বা সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী নই। এই শব্দগুলো উচ্চারণ-ই বা করতে হবে কেন! এই শব্দ উচ্চারণ করা মানেই বুঝতে হবে এখানে একটা সমস্যা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে 'রংধনু জাতি' গঠন, যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির মানুষ সমান মর্যাদায় সহাবস্থান করবে।'
আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির 'সরস্বতী জ্ঞান মন্দির'-এর শুভ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'সবার পক্ষ থেকে হোস্টেলের জন্য দাবি-দাওয়া এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর জায়গা রয়েছে। আমি উপাচার্য সাহেবকে বলেছি জায়গা নির্ধারণ করে দিতে; ব্যবস্থা একটা হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।'
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, আমন্ত্রিত অতিথি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, 'শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষ মিলেমিশে শুধু বাংলাদেশের পরিচয়ে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে দর্শন দিয়েছিলেন, তার এক অনন্য উদাহরণ হচ্ছে আমাদের এই প্রিয় হাটহাজারী। এই হাটহাজারী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'এখানে মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা বা গির্জা—যে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এলাকার মানুষ সবসময় দলমত নির্বিশেষে উদ্যোগী থাকে। গত কয়েকদিনে আমি মন্দির বা শ্মশান সংস্কারের যে কয়টি প্রস্তাব পেয়েছি, সেগুলো মন্দির কমিটি থেকে নয়, বরং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এসেছে। এটাই প্রমাণ করে যে আমাদের এলাকাটি অত্যন্ত সম্প্রীতিময়।'
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। এই জ্ঞান মন্দিরকে আমি শুধুমাত্র একটি পাথরের ঘর হিসেবে দেখতে চাই না; এটি আমাদের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
উপাচার্য আরও বলেন, 'আমাদের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ যে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে দিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করব। একইসঙ্গে আশা করি, মান্যবর অতিথিবৃন্দ আমাদের এই অগ্রযাত্রায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। মন্দির সংক্রান্ত বিষয়গুলোর মধ্যে পুরোহিত নিয়োগ থেকে শুরু করে মন্দিরের জন্য একটি হোস্টেল স্থাপনের লক্ষ্যে জায়গা বরাদ্দ—এসব বিষয় আমি গুরুত্বসহকারে দেখব এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
