পাচারের অর্থ ফেরাতে ২৩ দেশে আইনি চিঠি দেওয়া হয়েছে, সংসদে অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে ২৩টি দেশে আইনগত সহায়তা অনুরোধ (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
এসময় আমির খসরু বলেন, 'বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে ১২ সদস্যের একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।'
তিনি বলেন, 'টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীনে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইস চিহ্নিত করা হয়। এই মামলাগুলো অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল [জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম-জেআইটি] গঠন করা হয়।'
তিনি এসময় জেআইটি গঠনের পর ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত আদালত দেশে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত [অ্যাটাচমেন্ট] এবং ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ [ফ্রিজ] করেছেন। অর্থাৎ, দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'অপরদিকে আদালত বিদেশে ৮ হাজার ৮৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত এবং ৪ হাজার ৪১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করেছেন। অর্থাৎ, বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি আদালত সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করেছেন।'
আমির খসরু বলেন, 'দেশের আদালতের দেওয়া বিদেশের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত ও অবরুদ্ধের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ২৩টি দেশে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় ২১টি এমএলএআর পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।'
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (আইএসিসিসি), বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) যৌথ অংশীদারিত্ব দ্য স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ইনিশিয়েটিভ (এসএআর), দ্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি (আইসিএআর), যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বা দ্য ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস প্রমুখ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি [কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও হংকং] দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'এরমধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং-চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড বিকল্প পদ্ধতি [এমওইউ, কেইস টু কেইস এগ্রিমেন্ট ইত্যাদি] বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে।'
উল্লেখ্য, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের এমএলএটি রয়েছে। বিদেশে পাচার করা সম্পদ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সম্প্রতি বিএফআইইউ'র অধীনে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন গঠন করা হয়েছে।
