জ্বালানি সংকট অসহনীয় পর্যায়ে; আজ ঘাটতি ৩,০০০ মেগাওয়াট: বিদ্যুৎ বিভাগ
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট 'সহনীয় পর্যায়ের বাইরে' চলে গেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশ।
আজ (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা-১) উম্মে রেহানা বলেন, অতিরিক্ত চাহিদা এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে এই গ্রীষ্মে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।
তিনি বলেন, 'সাধারণত গ্রীষ্মকালে আমরা লোডশেডিংয়ের মতো সংকটের সম্মুখীন হই, কিন্তু এ বছর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বেশি।'
তিনি আরও জানান, 'আজ বিদ্যুতের প্রাক্কলিত চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছি। ফলে উৎপাদনের ঘাটতি প্রায় ৩,০০০ মেগাওয়াট। মধ্যপ্রাচ্য সংকট আমাদের লোডশেডিংয়ের মতো একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।'
উম্মে রেহানা উল্লেখ করেন যে, বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের ক্রমাগত ব্যবহারের কারণে মোট বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, 'তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আমাদের একটি তীব্র জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং এটি সহনীয় পর্যায়ের বাইরে চলে গেছে।'
সাম্প্রতিক তথ্য প্রদান করে তিনি বলেন, গতকাল বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট, যেখানে উৎপাদন সীমিত ছিল ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াটে।
তিনি বলেন, 'আমাদের বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির অভাবে আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছি না।'
গ্যাস-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৪৩ শতাংশ (১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট) দখল করে আছে। কিন্তু অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের কারণে এগুলো সক্ষমতার অনেক নিচে চলছে।
তিনি বলেন, 'এই কেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস প্রয়োজন, কিন্তু সরবরাহ ৮৫০ থেকে ৯০০ এমএমসিএফডি-র মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।' গতকাল গ্যাস-ভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে মাত্র পাঁচ হাজার ২৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
যুগ্ম সচিব কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টির দিকেও ইঙ্গিত করেন। আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা এবং এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদন হ্রাস এই ঘাটতিতে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট আরএনপিএল প্ল্যান্টের একটি ইউনিট কয়লা সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে।
তবে উম্মে রেহানা জানান, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যা ২৬ এপ্রিলের মধ্যে সমাধান হতে পারে এবং এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট ২৮ এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারে।
তিনি বলেন, এই কেন্দ্রগুলো সম্মিলিতভাবে এপ্রিলের শেষ নাগাদ গ্রিডে আরও প্রায় এক হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করতে পারবে।
কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় চলা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও উৎপাদন বাড়াবে, যার ফলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও প্রায় ১ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারে। এতে লোডশেডিং পরিস্থিতি কিছুটা কমতে পারে।
