সিলেটে ডিপো পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ বাড়লেও, ডিলার পর্যায়ে বাড়েনি: জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি
সিলেটে ডিপো পর্যায়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও, ডিলার পর্যায়ে বাড়েনি বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াসাদ আজিম আদনান।
বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি বলেন, 'ডিপো পর্যায়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও ডিলার পর্যায়ে বাড়েনি। ফলে তেলের সরবরাহ আদতে কাগজপত্রে বেড়েছে বাস্তবে বাড়েনি।'
তিনি আরও বলেন, 'ডিপোতে আগে ১০০ লিটার বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখন ১২০ লিটার দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা পেট্রোল পাম্প মালিকরা কিন্তু বেশি বরাদ্দ পাচ্ছি না।'
হঠাৎ করে সিলেটে তেলের চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে জানিয়ে রিয়াসাদ আজিম বলেন, 'আমার পাম্পে আগে দিনে সর্বোচ্চ ৬/৭ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হতো। এখন প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'কেন এত বেশি চাহিদা বাড়ল তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। এটার একটি কারণ হতে পারে- মানুষ হুজুগে তেল কিনছে, অথবা হতে পারে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'সিলেটে ডিজেলের কিছু সঙ্কট আছে। তবে পেট্রোল বা অকটেনের সঙ্কট নেই। একারণে সিলেটের কোনো পাম্পেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাবে না।'
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, 'সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে উপাজাত হিসেবে প্রচুর পেট্রোল অকটেন ও ডিজেল পাওয়া যায়, যা সারাদেশে সরবরাহ হয়।'
তিনি বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি, সিলেটে উৎপাদিত জ্বালানি সিলেটের চাহিদা মিটিয়ে, তারপর যেন অন্যান্য এলাকার পাঠানো হয়। এই দাবি পূরণ হলে সিলেটে কোনো সঙ্কট থাকবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন- হাসপাতাল, মার্কেট- এগুলো ডিজেল মজুদ করে রাখছে। ফলে ডিজেলের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।'
সরবরাহ বাড়া প্রসঙ্গে জুবায়ের আহমেদ বলেন, 'এখন আমরা ৪ দিনে এক গাড়ি বেশি পাচ্ছি। এটি তেমন কোনো প্রভাব ফেলছে না।'
