সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ: রাষ্ট্রপক্ষের আপিল না হওয়া পর্যন্ত শুনানি নয়
সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের ওপর আপাতত শুনানি হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করবে। ওই আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই রিটের শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য ৯৬ নম্বর ক্রমিকে ছিল। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে নিশ্চিত করেছে যে তারা আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে আপিল দায়ের করবেন। আদালত প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, এই অন্তর্বর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বর্তমান স্থাপনাগুলো যেন আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরিয়ে ফেলা না হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, 'আমরা আদালতকে বলেছি যে আগের একটি মামলা আপিল বিভাগে দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। সেটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নতুন রিটের শুনানি সমীচীন হবে কি না, তা বিবেচনার বিষয়। আমরা শিগগিরই আপিল করব। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং তার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন, যা আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।'
এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর এক রায়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সাত আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। চলতি মাসের ৭ তারিখে ওই রায়ের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের প্রেক্ষাপটে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫' জারি করে এবং ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সচিবালয়টি উদ্বোধন করা হয়। তবে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল' পাস করা হয়।
এরপরই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত রবিবার সাত আইনজীবী পুনরায় রিট করেন। রিটে এই আইনটিকে কেন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা নিয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। একইসাথে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সচিবালয়ের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য নির্ধারিত ৪৬ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার মধ্যে ইতিমধ্যে ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট থেকে ১৯ জন কর্মচারীকে পদায়ন করা হয়েছে এবং অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। অর্থ বিভাগ থেকে সচিবালয়ের জন্য ১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যেই সচিবালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
