জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করেই আইএমএফের ঋণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: অর্থমন্ত্রী
জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, আইএমএফ-এর সব শর্ত মেনে বর্তমান নির্বাচিত সরকার ঋণ নেবে—এমনটি ভাবার কারণ নেই। কারণ আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্কটি কোনো চ্যারিটি নয়, বরং এটি একটি বাণিজ্যিক সম্পর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরেন।
আইএমএফ-এর ঋণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব নিয়ে আলোচনা হয়, এখানে অ্যামাউন্ট কোনো বিষয় নয়। অনেকে সেটি বুঝতে চায় না।'
ঋণ আলোচনার বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'আইএমএফের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। আরো ১৫ থেকে ২০ দিন চলতে পারে, এমনকি এক মাসও চলতে পারে। আইএমএফ-এর সঙ্গে আলোচনায় আমরা পুরোপুরি একমত হতে পারিনি। আইএমএফ কি চাচ্ছে সেটা আমরা পর্যালোচনা করছি। আমাদেরও চাওয়া পাওয়া রয়েছে, আমরা একটি নির্বাচিত সরকার। কেউ কিছু চাইলেই আমরা সেটা মানব সেরকম না। বর্তমান সরকার জনগণের, ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এরকম কোন সিদ্ধান্ত নেবে না।'
ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংকের সাথে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে আইএমএফের বিদ্যমান কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'আইএমএফের সঙ্গে বর্তমানে যে ঋণ কর্মসূচিটি রয়েছে, সেটি আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া এবং সেখানে অনেক শর্ত রয়েছে। আর এর মেয়াদ রয়েছে মাত্র সাত মাস। আওয়ামী লীগ সরকার যেসব শর্তে এই ঋণ নিয়েছিল, তার সবকিছু বর্তমান সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। জনগণের অসুবিধা হতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান নির্বাচিত সরকার নেবে না। আমরা সিদ্ধান্ত নেব পরবর্তী প্রোগ্রামে যাব কি না।'
ফ্যামিলি কার্ড চালুর কারণে আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে যেতে পারে বা নতুন শর্ত দিতে পারে—এমন আলোচনার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং ফ্যামিলি কার্ডকে সকল পক্ষ ভীষণ প্রশংসা করেছে। অর্থনীতির সুফল দরিদ্র জনগণের কাছে এর মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।'
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি আইএমএফের শর্ত মেনে করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমরাই শুধু বাড়ায়নি। সবাই বলেছে আপনারা কেন তেলের দাম বাড়াচ্ছেন না। শ্রীলঙ্কায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ালে তহবিলের ওপরে এত প্রেসার আসছে, সামনে বাজেট আসছে, এটা আসলে সামলানো সহজ না। সেজন্য যতটুকু না বাড়ালে নয় ততটাই বাড়ানো হয়েছে। এর সাথে আইএমএফের কোন সম্পর্ক নেই।'
মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে না দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'মূল্যস্ফীতি বাড়তেও পারে, নাও বাড়তে পারে। জ্বালানি তেলের দাম টেম্পোরারি যতটুকু বেড়েছে সেটি বেশি না, মূল্যস্ফীতির বাস্কেটে জ্বালানি তেলের অংশ সামান্য।'
পরিশেষে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর ইতিবাচক মনোভাবের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক, আইডিবি সকলের প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবে। সকলেই বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চাই। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোর সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার অ্যালায়েন রয়েছে। ফলে সবাই সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় এবং বেশ উৎসাহীও। বিশ্ব ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে আসবেন।'
