নববর্ষে খাজনা আদায়ে লক্ষ্মীপুরে ভূমি অফিসে ব্যতিক্রমী ‘হালখাতা’
১৬০০ শতক জমির খাজনা পরিশোধ করে বছরের সেরা খাজনা দাতা হিসেবে ভূমি প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিক ক্রেস্ট গ্রহন করেছেন আবু তাহের জিল্লুর নামের এক ভূমি মালিক।
ভূমির খাজনা পরিশোধের পর তাকে দেওয়া হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাতাসা, আঙ্গুলি আর মিষ্টি।
নতুন খাজনা পরিশোধ করে খুশি ভূমি মালিক একেএম সাইফুল্লাহ। এমন কয়েকজন জমির মালিক খাজনা পরিশোধ করে মিষ্টি খেয়ে হাসিমুখে ফিরে যাচ্ছিলেন।
বাংলা নববর্ষে ভূমির কর পরিশোধে 'হালখাতা' নামে এমন ব্যতিক্রম আয়োজন করেছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা ভূমি অফিস।
পহেলা বৈশাখ উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত লোকজ মেলায় রয়েছে ভূমি অফিসের হালখাতা স্টল।
এর আগে ৩০ চৈত্র সোমবার (১৩ এপ্রিল) 'নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করি, জমির মালিকানা সুদৃঢ় করি'- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা পরিষদের স্পন্দন হল রুমে বৈশাখ মাসব্যাপী হালখাতা উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান।
ব্যতিক্রমী এ হালখাতা উৎসবের আয়োজন করে উপজেলা ভূমি অফিস।
হারানো ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন বলেন, ''একসময় বাংলা বছরের শুরুতে জমির খাজনা আদায়ে 'হালখাতা'র প্রচলন ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে তা হারিয়ে গিয়ে বর্তমানে শুধু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই পুরনো ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।"
রাজস্ব বৃদ্ধি ও সচেতনতা তৈরি
সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ''ঐতিহ্যের ভাবধারায় জমির মালিকদের নিয়মিত জমির খাজনা পরিশোধে উৎসাহ দিতে এবং দেশের রাজস্ব আদায় বাড়াতে এ হালখাতার আয়োজন করেছে উপজেলা ভূমি অফিস। আবার কিছু ভূমি মালিক ও প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততায় সময় মতো ভূমির খাজনা পরিশোধ করতে পারেন না।''
তিনি বলেন, ''এমন হালখাতার ধারা অব্যাহত রাখলে বাংলা বর্ষের শুরুতে জমির খাজনা দিতে আগ্রহী হবেন ভূমি মালিকরা। এতে এক দিকে সরকারি পাওনা যেমন নিদিষ্ট সময়ে আদায় হবে, তেমনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করতে আসলে জমিজমা ঠিক আছে কিনা সেটাও ভূমিমালিকরা জানতে পারবে। এর মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কম হবে।''
উৎসবমুখর হালখাতা
হালখাতা উপলক্ষে উপজেলার সবগুলো ভূমি অফিস সাজানো হয়েছে। খাজনা দিতে আসা ভূমি মালিকদের আপ্যায়নের জন্য রাখা হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার বাতাসা, মোয়া,মিষ্টি, পান ও সুপারি।
দ্রুত ভূমি সেবায় এগিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর
মুহাম্মদ আরাফাত হুসাইন জানান, লক্ষ্মীপুর কমলনগরের গড়ে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই নামজারি সম্পন্ন করা হয়। অন্যান্য জেলায় যা গড়ে ২৮ দিনের বেশি সময় লাগে। দ্রুত নামজারি নিষ্পত্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রথম স্থানে রয়েছে কমলনগর ভূমি অফিস।
তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য এবার শতভাগ খাজনা আদায় করে সারাদেশে প্রথম হওয়া।" ইতোমধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রায় ৯৩ শতাংশ খাজনা আদায় সম্পন্ন হয়েছে।
৫ ভূমি অফিসে একযোগে আয়োজন
উপজেলার ৫টি ভূমি অফিসের অধীনে ৯টি ইউনিয়নের ভূমি সেবা প্রদান করা হয়। এবার এসব অফিসে একযোগে 'হালখাতা' আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
