জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জেটি নির্মাণ করবে বিআইডব্লিউটিএ
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এই জেটির মাধ্যমে অঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সমুদ্রপথে আরও দ্রুত, সহজ ও সুবিধাজনকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বেজা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বিআইডব্লিউটিএর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে আজ, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল)।
বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, এই প্রকল্পে বেজা জমি প্রদান করবে এবং জেটি নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বিআইডব্লিউটিএ।
তিনি বলেন, নতুন জেটির অবস্থান মীরসরাইয়ের পশ্চিম দিকে, সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ছোট জাহাজ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন সহজ করবে। জেটির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি পণ্য উত্তোলন করতে পারবেন, যা রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য সুবিধাজনক।
তিনি আরও বলেন, "প্রকল্পে প্রফিট শেয়ারিং মডেল প্রয়োগ করা হবে এবং এর বিস্তারিত চুক্তি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জেটি স্থাপন ও পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় করা হবে, যা শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের লজিস্টিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
বেজা জানায়, এনএসইজেড দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল, যা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই এবং ফেনির সোনাগাজী অঞ্চলের সাগরতীরজুড়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে উঠছে। এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নগর সুবিধার সমন্বয় করা হচ্ছে।
এ অঞ্চলে ইতোমধ্যে অন্তত ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন। নতুন জেটি এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের দ্রুত ও নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করবে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দেশের নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বেজা জানিয়েছে, এনএসইজেডে বিনিয়োগকারীদের জন্য জেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুবিধা হিসেবে কাজ করবে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুননাহার চৌধুরী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, জেটি নির্মাণে বেজার সঙ্গে চুক্তি আজই স্বাক্ষর হবে। তিনি বলেন, "প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে এগিয়ে চলছে; জমি নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
জেটিটি শিল্প ও উৎপাদন খাতের প্রধান পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি পর্যটন ও অন্যান্য নৌপরিবহন কার্যক্রমও এখানে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ ও বেজা যৌথভাবে জেটি নির্মাণ, নিরাপত্তা ও পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
বেজা সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত জেটি এলাকা মীরসরাই অঞ্চলের একটি সংরক্ষিত স্থানে নির্মিত হবে। এখানে কন্টেইনার টার্মিনাল, রেল সংযোগ, সড়ক ও সমুদ্রপথসহ মাল্টিমোডাল লজিস্টিক সুবিধা থাকবে।
প্রাথমিকভাবে তিনটি জেটি স্থাপন করা হবে, যার মধ্যে একটি বিআইডব্লিউটিএ পরিচালনা করবে এবং বাকি দুটি বেসরকারি বিনিয়োগে নির্মিত হবে।
বেজা জানিয়েছে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী সড়ক নেটওয়ার্ক ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সংযুক্ত করে বন্যা ও দুর্যোগ সহনশীল, গ্রোথ সেন্টারভিত্তিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্থলবন্দর, নৌবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও রেলস্টেশনের সঙ্গে এসব অঞ্চলকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় লজিস্টিক নীতি অনুযায়ী, বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়বে এবং রপ্তানি পণ্য ও সেবার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
