তনু হত্যা মামলা: সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ ম্যাচিংয়ের নির্দেশ
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের ১০ বছর পর আবারও তিনজনের ডিএনএ ম্যাচিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বিচারক সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সংগৃহীত নমুনার ডিএনএ ম্যাচ করার নির্দেশ দেন।
পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও এই মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, "তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে তনুর ব্যবহৃত কাপড় থেকে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেগুলো তখন ম্যাচিং করা হয়নি। আজ আদালত ওই সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ওই তিনজন ব্যক্তি ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।" আদালত মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে আদালতের এই উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তনুর ভাই রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, "এর আগেও বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু তখন ফলাফলের বিষয়ে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি সিআইডির যে কর্মকর্তা তদন্তে সক্রিয় ছিলেন, তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের ধারণা, আজকের এই ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টিও লোকদেখানো। তারপরও আমরা চাই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হোক।"
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে পিবিআই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, 'মেয়ে হত্যার ১০ বছর পার হয়ে গেল। এ পর্যন্ত অসংখ্যবার সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা পুলিশ অফিস ও ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে সাক্ষ্য দিয়েছি, কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। তদন্ত কর্মকর্তা বলায় আজ আদালতে এসেছি। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে অন্তত আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা দেখে যেতে চাই।'
