অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সরকার অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
তিনি বলেন, 'যুগোপযোগী করার জন্য দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৬ (অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন)-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আইনের অধীন বর্তমানে ভোজ্যতেলের মূল্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তার কাঁচামালের মূল্যও সমন্বয় করা হয়। চলতি পঞ্জিকা বছরে তিন বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।'
রবিবার (৫ এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের (চট্টগ্রাম-১৩) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
এসময় তিনি বলেন, 'দেশে নিত্যপণ্যের বাজার ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ অপরাপর দেশের প্রচলিত মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য একটি আদর্শ মডেল নিরূপণ করার লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, 'দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যৌক্তিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'গত বছর পেঁয়াজের দাম উৎপাদন মূল্যের কাছাকাছি ছিল। গত বছরের মাঝামাঝি এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে দুই বার আমদানি উন্মুক্ত করার পর দাম স্বাভাবিক হয়। এ বছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করেছে। ফলে এসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক ছিল। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।'
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকায় প্রতিদিন ৪টি করে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২টি করে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনিয়ম দেখা দিলে সতর্ক করাসহ জরিমানা করা হচ্ছে। এলপিজি আমদানি ও বিপণনকারীদের সঙ্গে সভা করে সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'জ্বালানিসহ ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য এসব পণ্যের আমদানি ও উৎপাদনকারীদের ব্যাংকিং সমস্যা সমাধান করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'স্থানীয় পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বৃহৎ আড়ৎসমূহ, গোডাউন, কোল্ড স্টোরেজ ও সাপ্লাই চেইনসহ অন্যান্য স্থানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইন তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স কর্তৃক নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।'
মন্ত্রী বলেন, 'দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে এবং উৎপাদক, পাইকারি, ও ভোক্তা পর্যায়ের মধ্যে যাতে দামের পার্থক্য ন্যূনতম থাকে সে লক্ষ্যে এই বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অভিযান পরিচালনা করছে।'
তিনি বলেন, 'টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের প্রায় এক কোটি জনসাধারণের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) চাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও মশুর ডাল বিতরণ করছে। এর মাধ্যমে এসব পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা এবং দরিদ্র জনগণের নিকট সহজে ও ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।'
