জনগণকে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় করব, আন্দোলন ছাড়া পথ নেই: বিরোধীদলীয় নেতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ভেতরে জনগণের রায়ের প্রতিফলন না ঘটার অভিযোগ এনে এবার রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া 'সংবিধান সংস্কারের' দাবি আদায়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী দল এখন সরাসরি 'জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার' সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন।
এর আগে দুপুরে 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার)' বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়ে যথাযথ প্রতিকার না পাওয়া এবং আইনমন্ত্রী কর্তৃক বিরোধীদলীয় নেতাকে 'মিসকোট' বা ভুলভাবে উদ্ধৃত করার প্রতিবাদে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা আন্তরিকভাবে চেয়েছিলাম হাউসের ভেতরেই এই সংকটের সমাধান হোক। কিন্তু আমাদের এই আহ্বানের প্রতি সরকার সম্মান প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেহেতু সংসদের ভেতরে জনগণের এই অভিপ্রায়ের বিষয়টি সম্মানিত এবং গৃহীত হলো না, আমাদের জন্য এখন পথ একটাই; আর তা হলো জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া। যে জনগণ আমাদের এই রায় দিয়েছিল, আমরা এখন সেই জনগণের কাছেই ফিরে যাব। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা এই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় করার কার্যক্রম গ্রহণ করব।"
আইনমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আইনমন্ত্রী সংসদে বিরোধী দলের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাঁড়িয়ে বলেছেন যে, বিরোধী দল সংবিধান 'সংশোধন' সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অসত্য। আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি এটি হতে হবে 'সংবিধান সংস্কার' সংক্রান্ত পরিষদ। সংস্কার এবং সংশোধন এক জিনিস নয়।"
শফিকুর রহমান আরও জানান, বিরোধী দল প্রস্তাব করেছিল সরকার যদি সত্যিই সংস্কার চায়, তবে গঠিত হতে যাওয়া সংবিধান সংস্কার কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু সরকারি দল আমাদের এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "নিঃসন্দেহে আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। ১১ দলীয় ঐক্য দ্রুতই একত্রে বসে আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।"
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমাদ হানজালা।
