ভারতের ডিজেলে রপ্তানি শুল্ক: বাংলাদেশে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই
ডিজেলের ওপর ভারতের রপ্তানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কোনো বাড়তি আর্থিক ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। কারণ, এই চুক্তিটি সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, জিটুজি চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই আগে থেকে নির্ধারিত শর্তাবলি মেনে চলতে বাধ্য। এই চুক্তিতে রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা থাকায় কোনো পক্ষ এককভাবে এটি বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে না।
দেশের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত ডিজেলে লিটারপ্রতি ২১.৫ রুপি এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) ওপর লিটারপ্রতি ২৯.৫ রুপি পর্যন্ত রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছে। গত ২৭ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এ তথ্য জানান।
তবে নতুন এই শুল্কের পরও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সরবরাহ চুক্তিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশনস) মনির হোসেন চৌধুরী বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আগে থেকে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ীই বাংলাদেশের ডিজেল পাওয়ার কথা। আমি মনে করি, রপ্তানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ কেনাবেচার শর্তগুলো আগেই ঠিক করা ছিল।'
তিনি আরও জানান, নতুন কোনো শর্ত নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত আগের চুক্তি অনুযায়ীই বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ পাবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কর্মকর্তাদের মতে, এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন সরবরাহের বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে আমদানি করে।
চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে চুক্তিতে উল্লেখিত ১ লাখ ৮০ হাজার টনের সীমার ভেতর থেকেই অতিরিক্ত আরও ৬০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।
