জুলাই সুরক্ষার চার অধ্যাদেশ নিয়ে আমরা সবাই একমত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অধিকাংশের বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ''আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে গুরুত্ব দিয়েছি। আমরা জুলাই সুরক্ষা নিয়ে সবাই একমত হয়েছি।''
তিনি বলেন, ''আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে গুরুত্ব দিয়েছি। বিশেষ করে 'জুলাই সুরক্ষা' সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে।''
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশে যাচাইবাছাইয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ''১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।''
তিনি বলেন, ''প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ যেভাবে আছে সেভাবেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল আকারে এনে পাস করবে। দ্বিতীয়ত, কিছু অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এই অধিবেশনে 'ল্যাপস' (বাতিল) হয়ে যাবে; প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে নতুন বিল হিসেবে আসবে।''
তিনি আরও বলেন, ''সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী নতুন বিল পাসের আগে পুরোনো অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে, যাতে আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।''
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ''অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে 'জুলাই জাতীয় সনদ' এবং 'সাংবিধানিকতা'—এই দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।'
তিনি বলেন, ''আমরা জুলাই জাতীয় সনদকে এখানে প্রাধান্য দিচ্ছি। সাংবিধানিকতা রক্ষা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিটি বিল বিবেচনা করা হচ্ছে। অধিকাংশ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা শেষ হলেও দুদক আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।'
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ''কমিটির মাননীয় সভাপতি আগামী ২৯ মার্চ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে পরবর্তী সেশনের সময় নির্ধারণ করেছেন। আশা করি, ওইদিন মিটিংয়ে আমরা বাকি থাকা বিষয়গুলোর চূড়ান্ত ফয়সালা করতে পারব।''
তিনি বলেন, ''জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়ে এবং সংবিধান সমুন্নত রেখেই বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। জুলাই যোদ্ধাদের বিষয়ে সবাই একমত। তবে কিছু বিষয়ে আলোচনা চলমান আছে, যা আগামী ২৯ তারিখের বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে।''
দ্বিতীয় দিনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম অংশ নেন।
সংসদের বিশেষ কমিটির দুই দিনব্যাপী বৈঠকের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২০টির বিষয়ে একমত হয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
তবে গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশ কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় বৈঠকে বসবে কমিটি।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টা ব্যাপী এই বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ''১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রায় সবগুলো নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি ১৩টি বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।''
কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্য রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, ১১৫টি অধ্যাদেশে তারা একমত হলেও গণভোট, দুদক ও পুলিশ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বিএনপি সরকার রহিত করার প্রস্তাব করেছে।
তিনি বলেন, ''গণভোট নিয়ে আমাদের একমত হওয়া সম্ভব হয়নি। দুদক ও পুলিশ কমিশন বিষয়েও আমরা সরকারের বর্তমান প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হতে পারছি না। প্রায় ১৮ থেকে ২০টি বিষয় নিয়ে পরে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।''
অন্যদিকে, জামায়াতের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদীন বলেন, ''গণভোট রহিত করার বিষয়ে জামায়াত মিথ্যা বলছে। এ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা সংবিধান মোতাবেক আগাচ্ছি। যেগুলো প্রস্তাব করা দরকার, সেগুলোই আলোচনায় রাখা হয়েছে।''
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদীন আরও বলেন, ''যেসব বিষয়ে একমতে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলো নিয়ে সরাসরি সংসদে আলোচনা হবে এবং সংসদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি বিষয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করছি। আগামী ৩০ মার্চ রাতে আবারও আলোচনা চলবে।''
