ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে আরও এগিয়ে নেয়া হোক ঈদের দিনের প্রকৃত আনন্দ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাধারণ মানুষের সাথে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় পেকুয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তিনি ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় জনসাধারণের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে উপজেলা মাঠ পরিদর্শন করে তা দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন।
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, "সমগ্র দেশের সকল মানুষকে জানাই আন্তরিক ঈদ মোবারক। এই পবিত্র দিনে আমরা দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনা করি। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একসাথে কাজ করে আমাদের প্রিয় দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই। এটাই হোক আমাদের আজকের দিনের প্রকৃত আনন্দ।"
ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়া প্রতারণা বা 'ফ্রড' নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "প্রতারণা বর্তমানে শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে এই ধরনের অপরাধ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাই এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।"
তিনি আরও বলেন, এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে 'গ্লোবাল সামিট অন ফ্রড' আয়োজন করা হয়, যেখানে অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার ও বৈশ্বিক কৌশল প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই অপরাধগুলো যেহেতু সীমান্ত মানে না, তাই বৈশ্বিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এগুলো দমন করাই সরকারের লক্ষ্য।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মন্ত্রী বলেন, "রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চলমান ইস্যু। এ বিষয়ে আমরা সবসময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করি। বর্তমান সরকার এই সমস্যার টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আশা করি, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যক্রমে অংশ নেবে।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, বৈশ্বিক প্রতারণা প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন—উভয় ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য এবং সরকার সে লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
ঈদের নামাজ আদায় ও স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী মোবারকিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে যান এবং সেখানে তার প্রয়াত বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার বাসভবন থেকে মসজিদে পৌঁছান। ভোর ৮টা থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন 'সাঈদ ম্যানশন'-এ স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
