ঈদযাত্রায় চাপ সামলাতে ট্রেনে বাড়তি কোচ, চলবে বিশেষ ট্রেন
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে রেলপথে যাত্রীর চাপ বাড়বে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা ও বিশেষ ট্রেন চালুসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চাহিদা অনুযায়ী জনপ্রিয় রুটের ট্রেনগুলোতে মোট ৪৬টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হচ্ছে। একইদিন থেকে সারাদেশে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু হবে—যা চলবে আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "গত ১৩ মার্চ থেকে প্রতিটি ট্রেনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এখন সব টিকিটই অনলাইনে বিক্রি হয়। শুধু স্ট্যান্ডিং টিকিট ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে বিক্রি করা হচ্ছে। ঈদের মূল যাত্রা শুরু হবে সোমবার থেকে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এবারও ছাদে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যেতে দেওয়া হবে না।"
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সড়ক পরিবহনে বাড়তি চাপ পড়তে পারে। এতে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ট্রেনমুখী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে এবার ট্রেনে যাত্রীর ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধান রুটগুলোতে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে অধিক চাহিদাসম্পন্ন কয়েকটি রুটে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা নতুন কোচ নামানোর প্রক্রিয়াও চলছে। এসব আধুনিক কোচ ঈদযাত্রায় সেবার মান বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলওয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপে ১২২টি কোচ মেরামত করা হয়েছে। এর অনেকগুলো আগে অব্যবহৃত ছিল অথবা মেরামতের প্রয়োজন ছিল। তবে ইঞ্জিন বিকল হলে যাত্রা বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এটিই এখন রেল সেবার ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রধান প্রতিবন্ধকতা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। এর মধ্যে বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে কোচের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হবে। এছাড়া একই রুটের তূর্ণা এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস ও মহানগর এক্সপ্রেসেও বাড়তি কোচ যোগ করা হবে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের বিজয় এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেসেও ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম পরিচালক (অপারেশন) মো. শহিদুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, "সারাদেশের পাঁচটি রুটে মোট পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনগুলোতে ৪৬টি কোচ যুক্ত করা হবে।"
তিনি বলেন, "ঈদের আগে সোমবার অফিস-আদালতের শেষদিন। ওইদিন বিকাল থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়বে। নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইঞ্জিন নিয়ে আমরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছি। কয়েকটি ইঞ্জিন মেরামত ও সংস্কার করা হচ্ছে। সেগুলো ঠিকভাবে চললে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশা করছি।"
রেলওয়ের তথ্যমতে, সব ট্রেন সচল রাখতে প্রয়োজন তিন হাজারের বেশি কোচ ও প্রায় ৩০০ লোকোমোটিভ। কিন্তু বর্তমানে সচল কোচ রয়েছে দুই হাজারের কিছু বেশি এবং সচল ইঞ্জিন দুই শতাধিক। অনেক ইঞ্জিন ও কোচের আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম) এই সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট। সেখানে সচল রয়েছে ১ হাজার ১৩১টি কোচ এবং ৭০টির কিছু বেশি ইঞ্জিন। কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, ঈদের ভিড়ের সময় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে অন্তত ৮৫টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান বলেন, "ঈদযাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রেলের সব বিভাগ কাজ করছে। প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সংস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা যাবে।"
