বাজেট সাপেক্ষে আগামী অর্থবছরে নতুন-পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে অর্ডার) করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় আগের সরকারের সময় জমা পড়া তিন হাজারের বেশি পেন্ডিং আবেদনের পাশাপাশি নতুন করেও আবেদন গ্রহণ করা হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে সংসদ সদস্যদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী সংসদকে জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, 'বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনলাইনে ৩,৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছিল। বর্তমান সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ওই পেন্ডিং আবেদনগুলোর পাশাপাশি নতুন করে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন গ্রহণ করা হবে।'
এমপিওভুক্তির সময়সীমা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে, নতুন-পুরাতনসহ প্রাপ্ত সব আবেদন পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
অধিবেশনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার এমপিওবিহীন স্কুল ও কলেজের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, নীতিমালার শর্ত পূরণ করলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকার যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তির সুফল পাবে।
বেসরকারি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের এমপিও জটিলতার বিষয়টি অধিবেশনে উত্থাপিত হলে শিক্ষামন্ত্রী নীতিগত বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি কেবল সাধারণ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান খোলার প্রতিযোগিতায় না নামার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, 'অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি কলেজ খোলার ব্যাপারে যতটা না আগ্রহী হবেন, আমি অনুরোধ করব সেই সাথে আমাদের কারিগরি শিক্ষা প্রসার এবং কর্মক্ষম জাতি তৈরি করার জন্য নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগ নিন।'
