জ্বালানি সরবরাহে উন্নতি হওয়ায় রেশনিং প্রত্যাহার করল সরকার
দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আগের আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার ফলে এখন ফিলিং স্টেশনগুলো নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে জ্বালানি তুলতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিপো থেকে কী পরিমাণ জ্বালানি নেওয়া যাবে—সে বিষয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর আর কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না।
এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দেশে চাহিদামতো জ্বালানি তেল পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা একাধিক তেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর পর সে উদ্বেগ অনেকাংশেই কমে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার (১৫ মার্চ) থেকেই জ্বালানি রেশনিং প্রত্যাহারের কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় কয়েকদিন আগে জ্বালানি বিতরণে রেশনিংসহ বেশ কয়েকটি বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা তেলের একাধিক চালান পৌঁছানোর পর জ্বালানি বিতরণে আরোপিত সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক বলেন, "রেশনিং তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য যেমন প্রযোজ্য, তেমনি সেখান থেকে গ্রাহকরাও তাদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি কিনতে পারবেন।"
জ্বালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, এখন ফিলিং স্টেশন মালিকরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন তুলতে পারবেন।
রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং যমুনা অয়েল কোম্পানিকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, এর ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং এতদিন সরবরাহ সীমার মধ্যে পরিচালিত হওয়া ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর চাপও কমবে।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানি বিতরণ আরও নমনীয় হবে এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, চলমান বোরো মৌসুমে কৃষকদের জ্বালানি চাহিদা এবং ঈদে মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব জ্বালানি বিতরণকেন্দ্রে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
এই সিদ্ধান্তে পরিবহন ও কৃষি খাতের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে ঈদযাত্রার আগে এবং বোরো মৌসুমে সেচের চাহিদা বাড়ার সময়ে।
