নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা, জ্বালানি ও বিদ্যুতে অগ্রাধিকার চায় টেলিকম অপারেটররা
নেটওয়ার্ক সচল রাখতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বরাদ্দে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছে মোবাইল টেলিকম অপারেটররা। তারা সতর্ক করে বলেছে, সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানির কম পাওয়ায় দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অভ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অভ বাংলাদেশ (অ্যামটব)। গতকাল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে লেখা এক চিঠিতে সংগঠনটি এই উদ্বেগের কথা জানায়।
সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের ইঙ্গিতের মধ্যে আসন্ন ঈদের ছুটিতে কার্যক্রম সচল রাখা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোম্পানিগুলো।
অ্যামটবের মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নেটওয়ার্ক সচল রাখতে মোবাইল অপারেটররা ব্যাপকভাবে ডিজেল ও পেট্রোলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে।
'জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, জেনারেটর পরিচালনা ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জরুরি সাড়াদান প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে,' বলেন তিনি।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, টেলিযোগাযোগকে সরকার জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বর্তমানে এ খাত দেশের ১৮ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মোবাইল গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে।
এছাড়া জরুরি যোগাযোগ, জননিরাপত্তা সেবা, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় অপারেটরদের জন্য ইতিমধ্যে পরিচালনগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
অ্যামটব সতর্ক করে বলেছে, অপর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ফলে বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকায় নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যাওয়া, ডেটা সেন্টারের অস্থিতিশীলতা, যন্ত্রপাতির ক্ষতি ও সেবা পুনরায় চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
এ ধরনের বিপর্যয় রোধে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিগুলোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর পাশাপাশি কোর নেটওয়ার্ক ফ্যাসিলিটি ও ডেটা সেন্টারের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের জন্য জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এলাকায় লোডশেডিং কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পেট্রোলিয়াম পণ্য ও কয়লার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশ গত কিছুদিন ধরে জ্বালানি সংকটে ভুগছে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্কজনিত জ্বালানি ক্রয়ের প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা পাম্পগুলোতে ঘাটতি সৃষ্টি করেছে।
