জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার অভিযোগ: বিপিসির দুই পরিচালককে ওএসডি
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় 'অদক্ষতার' দায়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) দুই পরিচালককে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
ওএসডি হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন—বিপিসির পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান এবং পরিচালক (মার্কেটিং) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন। তারা সরাসরি জ্বালানি কার্যক্রম ও বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি আমদানি ও মজুত ব্যবস্থাপনায় এই দুই কর্মকর্তার আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত ছিল বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা। বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "মন্ত্রণালয় মনে করে, যথাযথ পূর্বানুমান ও ব্যবস্থাপনা থাকলে জ্বালানি মজুতের ওপর বর্তমান পর্যায়ের চাপ এড়ানো সম্ভব হতো।"
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, উভয় কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের আগামী ৮ মার্চের মধ্যে বিপিসি থেকে অবমুক্ত হয়ে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের 'স্ট্যান্ড রিলিজ' হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। বিপিসির চেয়ারম্যানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেছেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কেবল দুজন কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করে না; এটি একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়া যেখানে খোদ জ্বালানি বিভাগেরও নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা রয়েছে। তারা বলেন, "সম্মিলিত ব্যর্থতার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।"
সূত্র জানায়, জ্বালানি মজুতের তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া নিয়েও মন্ত্রণালয় ক্ষুব্ধ ছিল। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, মজুত কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ পেলে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হবে এবং তারা অপ্রয়োজনীয় মজুত শুরু করবে।
বিপিসির শুক্রবারের (৬ মার্চ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭১৭ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। অকটেন মজুত আছে ২৩ হাজার ৫৫ টন, যা দিয়ে চলবে প্রায় ২৫ দিন। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের মজুত তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। বর্তমানে ৭৭ হাজার ৫৩২ টন ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আগামী ৮৯ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
