বৃহস্পতিবার বাতিল আরও ৩৪ ফ্লাইট, শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের দুর্ভোগ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা সংকটের আঁচ লেগেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আরও ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
নতুন করে ফ্লাইট বাতিলের এই ঘোষণায় হাজার হাজার যাত্রীর দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার বা দেশে ফেরার আশায় থাকা অনেকেই কয়েক দিন ধরে বিমানবন্দরে আটকে আছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। দেশগুলো হলো— ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পর থেকেই ফ্লাইটের এই বিপর্যয় শুরু হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি ও এয়ার এরাবিয়ার ১০টি ফ্লাইট। এছাড়া এমিরেটসের ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি, গালফ এয়ারের ২টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এদিন মোট ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছয়টি রুটে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে দাম্মাম, দোহা, মাস্কাট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বিমানবন্দরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরেই ফ্লাইটের এই সমস্যা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মোট ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি এবং ৪ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
বৃহস্পতিবারের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলো যোগ করলে এই সংকট শুরুর পর থেকে মোট ২১০টি ফ্লাইট বাতিল হলো। এতে বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যাত্রী চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন।
বিমানবন্দরে অপেক্ষারত যাত্রীরা জানান, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পুনরায় কবে ফ্লাইট চালু হবে, তা নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে। এছাড়া থাকার জায়গা জোগাড় করা এবং বিকল্প ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে গিয়েও তাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
এয়ারলাইন্স এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের একটি পরামর্শ দিয়েছে। ফ্লাইটের সময়সূচির সর্বশেষ তথ্য জানতে যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।
