ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের খুঁজে না পাওয়ায় আদালত এই আদেশ দেন।
বুধবার (৪ মার্চ) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিকে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। শুনানিতে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অগ্রগতি নিয়ে আদালতকে অবহিত করেন। প্রসিকিউটর জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আসামিদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও তাদের খুঁজে পাননি। এই প্রেক্ষাপটে ১২ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন জানানো হয়। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, "পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এই আসামিরা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শুরু হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া চলবে। পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেবেন ট্রাইব্যুনাল।"
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান। মামলার বাকি ১০ আসামির নাম এখনো প্রকাশ করেনি প্রসিকিউশন। এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি এই ১২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অভিযুক্ত আসামিরা সবাই অস্ত্রধারী ছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শামীম ওসমানসহ ১২ জনকে আসামি করে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়।
