আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র পণ্য খালাস শুরু, নিরাপদ আছেন ক্রুরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে তিন দিন বন্ধ থাকার পর পণ্য খালাস শুরু করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি 'বাংলার জয়যাত্রা'। সোমবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে জাহাজটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও জাহাজের সব ক্রু নিরাপদ আছেন। জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি মজুত রয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক সোমবার গণমাধ্যমকে বলেন, গত শনিবার জেবেল আলী বন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, "সোমবার বিকেলে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে এবং স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ 'বাংলার জয়যাত্রা' থেকে পণ্য খালাস শুরু করার কথা ছিল।"
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই জাহাজটি ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল বহন করছে। কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে রওনা হয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই বন্দরে পৌঁছায়।
ক্রুদের বর্তমান অবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কমোডর মালেক জানান, স্থগিত থাকাকালীন ক্রুদের কল্যাণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "জাহাজে আগে থেকেই ৭৩ টন পানি ছিল। আমরা আরও ২০০ টন পানি এবং অতিরিক্ত রসদ নিয়েছি যাতে খাবার বা পানির কোনো সংকট না হয়।"
তিনি আরও জানান, ক্রুদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তাদের জন্য নির্ধারিত দৈনিক ৭ ডলারের খাবার ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ৫ ডলার যুক্ত করা হয়েছে। ক্রুরা নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তারা মানসিকভাবে সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।
বিএসসির তথ্যমতে, জাহাজটি থেকে সব পণ্য খালাস করতে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে। পণ্য খালাস শেষে জাহাজটি কুয়েত থেকে সালফার নিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পরবর্তী যাত্রার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
কমোডর মালেক বলেন, "যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ জাহাজটি এই অঞ্চল থেকে বের হতে পারবে না। পরিস্থিতির বিবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।"
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরান এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নৌ-পথগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হয়। ইরান কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের পর এই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, যা বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল ও পণ্য পরিবহনে প্রভাব ফেলছে। বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাহাজের পরবর্তী শিডিউল নির্ধারণ করা হবে।
