মতিঝিলে রুমমেটকে হত্যার পর ৭ টুকরো: আসামি শাহিন ৫ দিনের রিমান্ডে
রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করার মামলায় গ্রেপ্তার শাহিন আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ দেন।
এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহরিন হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
শুনানি চলাকালে বিচারক আসামির কাছে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কেন মরদেহ এতগুলো খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলা হলো, তা জানতে চান। জবাবে আসামি শাহিন আলম বলেন, তাকে মারার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না। আমি সাধারণ মানুষ। বাড়িতে আম্মা অসুস্থ, কিছু টাকা অ্যাডভান্স ছিল তার কাছে। তার আচরণ ভালো লাগেনি। এসব নিয়ে ঝামেলা ছিল।
ঢাকায় সাড়ে চার মাস আগে এসেছেন বলেও আদালতকে জানান শাহিন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে কথাকাটাকাটির জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতে দেহটি সাতটি খণ্ড করেন শাহিন। এরপর নিজের সাইকেলে করে পলিথিনে মোড়ানো সেই খণ্ডিত অংশগুলো রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেন তিনি। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে দেহের অংশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওবায়দুল্লাহর রুমমেট শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মতিঝিল জোনের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানান, মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ও মতিঝিল হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহিন আলম মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন জানিয়েছেন, ওবায়দুল্লাহ তাকে নানাভাবে অপমান করতেন এবং তার ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভ এবং অনৈতিক প্রস্তাব ও কথাকাটাকাটির জেরে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করার উদ্দেশে পরে চাপাতি দিয়ে তা টুকরো করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
