রাজশাহীর পুঠিয়ায় ডাকাত সন্দেহে ৮ জনকে গণপিটুনি, নিহত ১; কর্ণহারে আরেক শিশুর মরদেহ উদ্ধার
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে আট জনকে গণপিটুনি দিয়েছেন গ্রামবাসী। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য সাতজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত দেড়টার দিকে উপজেলার পলাশি গ্রামে তাদের আটক করেন এলাকাবাসী। এরপর তাদের বেঁধে গণপিটুনি দেওয়া হয়। সোমবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. শাহীন (৫৫)। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামে তার বাড়ি। বাকি সাতজনের বাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং এরা সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলটি ডাকাতি করতে গিয়েছিল। ডাকাতির প্রস্তুতির সময় গ্রামবাসী তাদের ধরে ফেলেন। এরপর তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেন।
ওসি জানান, দলের আটজনের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে তারা মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। অন্য সাতজনের মধ্যে ছয়জন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। একজন ভর্তি আছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। তাদের শারীরীক অবস্থা স্থিতিশীল।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত হবে। এরপর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান জানান, গভীর রাতে একটি ট্রাকে আট জন লোক ঘরের তালা কাটার যন্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রামটিতে প্রবেশ করে। এসময় গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে তাদের আটক করে। বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের মারপিট করার সময় একজন গুরুতর আহত হয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সন্দেহভাজন ডাকাত দলের একজনকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক। বাকি ৭ জনকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ থানা থেকে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় দ্রুত একটি মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
এদিকে রাজশাহীর কর্ণহার থানার ধরমপুর এলাকায় নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত থেকে আদিব নামের ১১ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, সন্ধ্যায় তারাবির নামাজের পর থেকে আদিবকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা। সকালে এলাকাবাসী ও স্বজনরা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
কর্ণহার থানা পুলিশ আদিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশের ধারণা, শিশুটির প্যান্টের বেল্ট দিয়ে তার গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
