সাতক্ষীরায় এমন ভূমিকম্প আগে কখনো হয়নি: আবহাওয়া অফিস
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ শুক্রবার দুপুরে যেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়ায়। রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৪। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নথিপত্র অনুযায়ী সাতক্ষীরায় এ মাত্রার ভূমিকম্প আগে কখনো হয়নি।
ভূমিকম্পে জেলার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ঘরবাড়ির দেয়ালসহ বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ফাটল ও ভেঙে পড়র খবর পাওয়া গেছে। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কথা জানা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমিকম্পে তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে একটি ঘরের ছাউনি ভেঙে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ইসলাম সরদার জানান, ভূমিকম্পের কারণে আমার ঘর ভেঙে পড়েছে।
৬৫ বছর বয়সী জুয়েল সরদার বলেন, আমার বয়সে এত বড় ভূমিকম্প কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছিল, ঘর দুলছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, সাতক্ষীরায় এত বেশি মাত্রার ভূমিকম্প আগে কখনো হয়নি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি জেলায় সর্বোচ্চ ৩.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। উৎপত্তিস্থল ছিল কলারোয়া উপজেলা। তখন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরায় ভূমিকম্প সময়ে করণীয় বিষয়ক সচেতনতার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশিষ্টজনরা।
সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য এসএম তৌহিদুজ্জামান বলেন, ২৪ দিনের ব্যবধানে একই জেলায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার পূর্বাভাস মনে হচ্ছে। তাই এখনই সরকারিভাবে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার জানান, ভূমিকম্পে আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বাড়িঘরে ফাটল ও ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। আগামীকাল (শনিবার) জেলার সার্বিক তথ্য পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাঠানো হবে। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য আমরা পাইনি। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি।
