এলপিজির দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানোর এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি ঠেকাতে এবং ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাজারে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আগামীতে এলপিজির দাম কি বাড়ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "না না, এই মুহূর্তে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেই।"
বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, "সরকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জায়গায় এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা আমদানিকারক, বোটলিং প্ল্যান্টের মালিক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি অর্থবহ আলোচনা করেছি।"
তিনি বলেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ভোক্তাদের বিড়ম্বনা কমাতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তদারকি জোরদার করা হবে। খুচরা বিক্রেতারা যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে 'মার্কেট অ্যাবিউজ' করতে না পারে, সরকার সেটি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমদানিকারকরা ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রাইস রিভিউর পক্ষে কিছু যুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছেন। যদি তাদের দাবি তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে যৌক্তিক ও সমর্থনযোগ্য হয়, তবে সরকার তা বিবেচনা করবে। কারণ কেউ লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবে না। তবে আপাতত দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।"
এলপিজি খাতের সংকট ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক আমদানিকারক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। এছাড়া দেশীয় আমদানিকারকরা 'ফিউচার কন্ট্রাক্ট'-এর পরিবর্তে 'স্পট মার্কেট' থেকে গ্যাস কেনায় আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার প্রভাব দ্রুত দেশে পড়ে। পাশাপাশি ব্যাংকের 'সিঙ্গেল এক্সপোজার লিমিট' (একক গ্রাহক ঋণসীমা) অনেকের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যদি সরাসরি এলপিজি আমদানি করতে চায়, তবে বেসরকারি খাত তাদের স্টোরেজ সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বেসরকারি খাতের এমন সহযোগিতামূলক মনোভাবকে সরকার সাধুবাদ জানায়।
এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
