১০ মার্চ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার; নির্ধারিত পরিবার পাবে মাসিক ২,৫০০ টাকা
পাইলট উদ্যোগের আওতায় আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে সুবিধাভোগীরা প্রথম মাসের জন্য সরাসরি তাদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে নগদ ২,৫০০ টাকা সহায়তা পাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি ওয়ার্ডের ৬ হাজার ৫০০ পরিবার কিউআর কোড–সংবলিত ডিজিটাল স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
প্রথম মাসের নগদ সহায়তা ও পাইলট বাস্তবায়ন ব্যয় মেটাতে সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে ২ কোটি পরিবারে সম্প্রসারণ করা হবে। এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় 'ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০২৬'-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে।
খসড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাজেট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন, আগামী ১০ মার্চ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী পাইলট কর্মসূচির অনুমোদন দেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর প্রতিবেদনে অনুযায়ী সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, 'পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটি চালু করবেন। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন বিভাগ থেকে নির্বাচিত ১৪টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি নির্বাচিত ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে সর্বজনীন ভিত্তিতে কার্ড বিতরণ করা হবে।'
বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বৈষম্য বা দলীয় পক্ষপাত সহ্য করা হবে না বলেও তিনি জোর দেন।
পাইলট এলাকা
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য নির্বাচিত প্রথম ১৩টি স্থান হলো: ঢাকার কড়াইল বস্তি এলাকা, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার ৪ বা ৫ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১ বা ২ নম্বর ওয়ার্ড, বান্দরবানের লামা উপজেলার ২ বা ৩ নম্বর ওয়ার্ড, খুলনার খালিশপুর উপজেলার ১০ নম্বর ওয়ার্ড, ভোলার চর ফ্যাশন উপজেলার ১ বা ৪ নম্বর ওয়ার্ড, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৫ বা ৬ নম্বর ওয়ার্ড, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ২ বা ৮ নম্বর ওয়ার্ড, নাটোরের লালপুর উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ড, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১ বা ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ড।
যোগ্যতার মানদণ্ড
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, মাসিক আয়, সম্পদ ও জমির মালিকানার ভিত্তিতে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করা হবে।
গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটা ও আবাদযোগ্য মিলিয়ে ০.৫০ একর বা তার কম জমির মালিক পরিবারগুলো যোগ্য বিবেচিত হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন জোরদারে কার্ড সরাসরি মা বা পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে।
তবে পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী হলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা থাকলে, কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থাকলে সেই পরিবার বাদ পড়বে। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—যেমন হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে।
সমন্বিত সুবিধা
পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে। সরকারি কোষাগার থেকে 'সরকার থেকে ব্যক্তি' (জিটুপি) পদ্ধতিতে অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
বিদ্যমান টিসিবি কার্ডের ডাটাবেজ ফ্যামিলি কার্ডের ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রিতে (ডিএসআর) যুক্ত করা হবে।
একই স্মার্ট কার্ড ও ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যসহ ভবিষ্যতে শিক্ষা ভাতা ও কৃষি ভর্তুকিসহ অন্যান্য সুবিধা নিতে পারবেন।
পাইলট পর্যায়ে স্বচ্ছভাবে সুবিধাভোগী বাছাই নিশ্চিত করতে উপজেলা, সিটি, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যোগ্য পরিবারকে জানাতে মাইকিং ও স্থানীয় ডিজিটাল প্রচারসহ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
