আদাবরে কারখানায় হামলা: ‘কিশোর গ্যাং’ নেতা রাসেলসহ ৫ জন কারাগারে
ঢাকার আদাবর থানার আবির এমব্রয়ডারি কারখানায় চাঁদা চেয়ে হামলার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার 'কিশোর গ্যাং' নেতা রোহান খাঁন রাসেলসহ (৩০) পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া বাকি আসামিরা হলেন- মারুফ (৩৫), হাসান (২৩), মো. রায়হান (২২) ও মো. রোমান (২৪)।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, এদিন বিকালে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে রাখার আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামিরা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামি রোহান খাঁন রাসেল আদাবর থানার সুনিবির হাউজিং সোসাইটি ও শ্যামলী হাউজিং ২য় প্রকল্প বালুর মাঠ এলাকায় কিশোর গ্যাং গ্রুপ পরিচালনা করে। সে এলাকায় ত্রাসের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। এলাকার লোকজন তাদের গ্রুপের সদস্যদের ভয়ে ভীত থাকে।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তথ্যগুলোর যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে।
আসামিদেরকে পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্ত ও যাচাই-বাছাই সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদেরকে জেলে আটক রাখা প্রয়োজন।
এর আগে, রবিবার ভোর সাড়ে ৩ টায় আসামিদের রাজধানীর আদাবর থানার মুনসুরাবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। রাজধানীর আদাবর থানার মুনসুরাবাদ-১২ এলাকায় আবির এমব্রয়ডারি নামে বাদীর একটি ফ্যাক্টরি রয়েছে। আসামিরা বিভিন্ন সময়ে বাদীর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের আসা-যাওয়ার পথে আসামিরা বিভিন্ন সময় নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যেতো। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত সব কর্মচারীকে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। রাত ৯ টা ৪০ মিনিটে ফ্যাক্টরির কর্মচারীরা কাজ শেষ করে বেতন-ভাতা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে আসামিরা তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন জোর ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় কর্মচারীরা ভয়ে দৌড়ে ফ্যাক্টরির মধ্যে প্রবেশ করে।
আসামিরা সামুরাই, চাপাতি, চুরিসহ বাদীর ফ্যাক্টরির ভেতরে জোর করে প্রবেশ করতে চাইলে কর্মচারী মো. তোফায়েল (২৮) বাধা দেয়। আসামিরা তোফায়েলকে দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে।
ওই ঘটনায় আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরির মালিক মুস্তাফিজুর রহমান ৮ জনকে এজাহারনামীয় করে রাজধানীর আদাবর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
