রোজা ঘিরে রাজধানীর বাজারে উত্তাপ, সবজি-মুরগিতে বাড়তি চাপ
রমজান মাসের শুরুতে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজার এবং কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রিমজান মাসে চাহিদা বাড়ে এমন প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সবজি, মাছ, মুরগির বাজারে রীতিমতো উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম ভাষণে বলেছিলেন, সরকারের ৩ টি অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাস ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করেন। এ সময়ে বাসাবাড়িতে ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, মসজিদ এবং খোলা জায়গাতে রোযাদারদের জন্য ইফতার সামগ্রীর আয়োজন করা হয়।
ফলে স্বভাবতই ছোলা, খেজুর, ভোজ্যতেল, চিনি, লেবু, পেঁয়াজ, শসা, বেগুন, মাংশসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা বেড়ে যায়।
তবে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস বাড়িয়ে দামও বেড়ে গেছে এসব পণ্যের।
ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ শরবত। আর শরবত তৈরিতে প্রয়োজন পড়ে লেবুর। দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় লেবুর দাম বেড়েছে দ্বিগুনেরও বেশি। এখন এক হালি লেবু বাজারভেদে পাওয়া যাচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের প্রোটিনের অন্যতম উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও চড়া, কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। বেগুন ও কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। এক কেজি কাঁচামরিচ কিনতে এখন গুণতে হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, বড় দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০৫ টাকায়। অ্যাংকর ডালের দামও গতমাসের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
এছাড়া, সয়াবিন তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পাম ওয়েলের দাম গত মাসের তুলনায় প্রতি লিটারে ৫-৭ টাকা বেড়েছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৯৮-১০৫ টাকায়। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা, শসার দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে টিসিবির মূল্যতালিকার সঙ্গে বাজারদরের বেশ কিছু তারতম্য রয়েছে।
রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারে দেখা যায়, শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এসব সবজির দাম এবার কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।
বাজারের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য বিক্রেতারা সরবরাহের ঘাটতি ও অতিরিক্ত চাহিদাকে দায়ী করছেন।
কাঁঠালবাগানের এক সবজি বিক্রেতা জানান, এখন লেবুর মৌসুম না হওয়ার যোগান কম। কিন্তু চাহিদা আকাশচুম্বী। তাই দাম বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোজার প্রথম সপ্তাহে চাহিদার চাপে দাম বাড়লেও সপ্তাহখানেক পর সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কিছু পণ্যের দাম কমে আসতে পারে। সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর বাজার তদারকির।
