পরিবহনে 'চাঁদাবাজি' নিয়ে সড়ক মন্ত্রী রবিউল আলমের মন্তব্যের সমালোচনা টিআইবির, প্রত্যাহারের দাবি
'সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে, সেটা চাঁদা নয়। বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে, সেটা চাঁদা'— সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
গতকাল বৃহস্পতিবার আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'মন্ত্রীর এই চাঁদাবাজির ব্যাখ্যা সরকার এবং খোদ মন্ত্রীর নিজের দেওয়া জোরালো দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে এটি শাসক দলের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া সরকারপ্রধানের ভাষণেরও পরিপন্থী।'
তিনি আরও বলেন, 'সরকার যদি না চায় যে তাদের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি নিছক আইওয়াশ (লোক দেখানো বিষয়) হিসেবে গণ্য হোক, তবে মন্ত্রীকে অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।'
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সড়ক ও সেতু বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি যুক্তি দেখান, সড়ক পরিবহন খাতে 'পারস্পরিক বোঝাপড়ার' মাধ্যমে টাকা আদায় করা হলে তাকে চাঁদাবাজি হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই টিআইবি প্রধান এমন মন্তব্য করলেন।
আরও পড়ুন: সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নিলে তা চাঁদা নয়, বাধ্য করলে চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, 'সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো।
তিনি আরও বলেন, 'চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়।'
মন্ত্রী রবিউল আলাম আরও স্বীকার করেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে প্রায়ই 'প্রভাব' একটি ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, 'শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ অনেক সংস্থা আছে। তারা এটা সমঝোতার ভিত্তিতে করে থাকে। সেখানে আবার প্রাধান্য পায়—যখন যার প্রভাব থাকে, [প্রভাব আছে] এমন মালিকদের বা দলের প্রভাব থাকে।'
যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের শ্রমিক সংগঠনের একটা 'আধিপত্য' থাকে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'কিন্তু এটা চাঁদা আকারে আমাদের কাছে দেখার সুযোগ হচ্ছে না। কারণ তারা সমঝোতা ভিত্তিতে করছে।'
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'তিনি যেভাবেই চাঁদাবাজির সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন না কেন, তিনি স্পষ্টভাবে এটি বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন যে—এমন চাঁদাবাজি ও যোগসাজশমূলক দুর্নীতির বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি ন্যায্যতা দিচ্ছেন।'
তিনি আরও বলেন, এই বিতর্ক ক্ষমতাসীন দলের সংস্কার ও নিজেদের শুদ্ধ করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরে। দুর্নীতির বাধ যাতে নতুন করে খুলে না যায়—সেজন্য এটি দরকার। কারণ যারা সদ্য ভোট দিয়ে দলটিকে আবার ক্ষমতায় এনেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যায় ভুগছে।
