বিগত ১৫ বছরে অকার্যকর হওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সচল করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ফখরুল
বিগত ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে দুর্বল, অকার্যকর বা আস্থাহীন হয়ে পড়েছিল, সেগুলো পুনরায় সচল ও কার্যকর করতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'বিগত পনের বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে অকার্যকর করা হয়েছিল, আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে সেগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা মানে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়; বরং জনগণের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা। আমরা একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছি।'
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলি, তাই তাদের কাছে প্রতিটি কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব। বিভেদ ও ভিন্নমত ভুলে সবাই মিলে একটি 'টিম' হিসেবে কাজ করতে পারলেই একটি সুশাসিত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে।
গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের কষ্ট আজ একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এই কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র ও সচেতন নাগরিক সবার দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা হলো—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সাথে সম্পৃক্ত। নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি জনগণের সাথে আমাদের একটি 'সামাজিক চুক্তি'। এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলেই রাষ্ট্রের টেকসই সংস্কার সম্ভব। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকা পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
