কাজের প্রথম দিনেই ৩ অগ্রাধিকার নির্ধারণ নতুন মন্ত্রিসভার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নতুন মন্ত্রীরা দেশকে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে মব কালচার বন্ধ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি গড়ে তোলা, ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।
তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন হলেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। পরে বেলা ১২টার পর থেকে তারা সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে যোগ দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
নতুন সরকারের মন্ত্রীদের পরিকল্পনা জানতে সাংবাদিকরাও সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে দপ্তরে ফেরার পথেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কেউ কেউ।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের 'শীর্ষ তিন অগ্রাধিকার' নির্ধারণ সময়োপযোগী হয়েছে। দ্রব্যমূল্য কমিয়ে মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে বোরো মৌসুমে কৃষকদের আশ্বস্ত করা, এবং মব কালচার বন্ধ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার।
প্রথম দিনে মন্ত্রীদের পরিকল্পনা গণমাধ্যমে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। টিবিএসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, "প্রথম দিনে মন্ত্রীদের তুলে ধরা পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। সরকার যদি দ্রব্যমূল্য কমানো, বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে পারে, তাহলে অন্যান্য অনেক সংকটও কমে আসবে।"
তিনি আরও বলেন, "দ্রব্যমূল্য কমানো, শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হতে পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ করা, এলডিসি উত্তরণ পেছানো, পে-কমিশন বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং মব কালচার বন্ধের মতো পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে এবং দেশেরও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।"
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে কোনোভাবেই মবের মতো ঘটনা সহ্য করা হবে না। তারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিন্ডিকেট প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য মজুত রয়েছে এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহও রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য যথেষ্ট। ফলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।
নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে আইনগত জটিলতা কমানো এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারব্যবস্থায় ভোগান্তি কমানো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক ঘোষণা দেন, এখন থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে নতুন করে ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। তিনি বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার কথাও বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গড়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, "চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে; সকাল ৯টার অফিসে ১২টায় গেলে চলবে না এবং এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
