আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল
আদালতের নির্দেশ পেলে সেই অনুযায়ী ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবেবলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, 'আইনের দ্বারস্থ হতে কোনো বাধা নেই কোনো অভিযোগকারীর। আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।'
আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ৩২ আসনের ফলাফলাফল পুনর্গণনার আবেদন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, আজ দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জোটের পক্ষ থেকে ঢাকা-৮ সহ ৩২ আসনের ফলাফল পুররায় গণনার আবেদন করা হয়। সেই ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ছিলেন।
এসময় জামায়াতসহ ১১ দলের অভিযোগের বিষয় তিনি বলেন, 'গেজেট প্রকাশে কমিশন কোনো তড়িঘড়ি করেনি। আইনের মধ্যে থেকেই কাজ করা হয়েছে। সঠিক সময়ে গেজেট প্রকাশ হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল মনে করি। ওভারঅল নির্বাচনটা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। পারসেন্টেজ বলেন, ভোট ব্যবস্থাপনা বলেন, আপনাদের সবার সহযোগিতা বলেন, সবমিলেই আমরা সন্তুষ্ট। আল্লাহ তালার অশেষ মেহেরবানীতে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ এই নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য সহযোগিতা করেছেন।'
১১ দলীয় জোটের করা ৩২ আসনে ভোট পুর্নগণনার বিষয়ে এই কমিশনার বলেন, '১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উনারা আসছেন। আমরা দীর্ঘক্ষণ উনাদের বক্তব্য শুনেছি। উনাদের বক্তব্য অনুযায়ী কিছু সমস্যার কথা উনারা উল্লেখ করেছেন। আর তড়িঘড়ির তো প্রশ্নই আসে না। আমরা এবার চেষ্টা করেছি এই প্রযুক্তির যুগে আরও স্মার্টলি কীভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা যায়। সেই ব্যবস্থাগুলো আমরা নিয়ে রেখেছিলাম।'
তিনি বলেন, 'গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আমরা আরও আশাবাদী ছিলাম যে আরও আগে যদি দেওয়া যেত, ভালো হতো। আমাদের টিম, আমাদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে, তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই ফলাফল তৈরির কাজটি করেছেন। আমাদের এখানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যারা সংযুক্ত ছিলেন, তারা রাতদিন পরিশ্রম করে এই গেজেটটি প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছেন। এটি যথাসময়ে প্রকাশ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সেটি বিশ্বাস করে।'
তিনি আরও বলেন, 'ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসারকে দেহরক্ষী হিসেবে আমরা অস্ত্রসহ একজন আনসারকে দিয়েছি। আনসারের কাছে সুরক্ষা অ্যাপ ছিল। যখন যেখানে যে ঘটনা ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সেলে তথ্যটি এসেছে।'
ইসি আনোয়ারুল বলেন, 'বহু সংখ্যক ড্রোন এঙ্গেজ রেখেছি, হেলিকপ্টার এঙ্গেজ রেখেছি, বডি ওয়ান ক্যামেরা রেখেছি। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা ছিল। এমন একটি পরিস্থিতিতে সবকিছু আয়নার মত পরিষ্কার। আমরা এখান থেকে কোনটা সত্য তথ্য, কোনটা মিথ্যা তথ্য সবগুলোই মনিটর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নির্বাচন কমিশন মনে করে যখন যেই ঘটনাটি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে, আমরা শতভাগ সেটিকে এড্রেস করার চেষ্টা করেছি এবং সমাধান করেছি।'
পুর্নগণনার দাবি ইসি মানবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'তাদের দাবিটি বিচার- বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আইন তাদেরকে সুযোগ দিয়েছে যে যদি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে, তারা সেটি হাইকোর্টকে জানাতে পারবেন। হাইকোর্ট সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।'
শেরপুর-৩ আসনের তফসিল কবে হবে জানতে চাইলে ইসি আনোয়ারুল বলেন, 'এগুলো আপনারা স্টেপ বাই স্টেপ পেয়ে যাবেন। শেরপুরের নির্বাচন প্লাস আপনারা জানেন একজন প্রার্থী দুটি আসনে নির্বাচন করেছেন। তিনি কোনটি রাখবেন কোনটি রাখবেন না- এ তথ্য এখনও নির্বাচন কমিশনে আসেনি। শেরপুরের নির্বাচনটাও আমাদের করতে হবে। কমিশন এখনও সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি। অচিরেই আপনারা কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে জানতে পারবেন।'
শপথের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সংবিধানের ১৪৮ আর্টিকেল যদি আমরা একটু লক্ষ্য করি, তাহলে দেখব ভোটগ্রহণের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে তিন দিনের ভিতরে যদি স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার শপথ না পড়ান, তাহলে চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পাঠ করানোর বিধান রয়েছে।'
তিনি আর বলেন, 'আরও যে আইনগত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছেন, তারা হয়তো ব্যাখা করবেন। তবে এর বাইরে বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কারণ কবে-কখন এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে, সেটি এখনও আমরা অফিশিয়ালি অবগত নই। সেটি অফিশিয়ালি অবগত হলে পরে আপনাদের জানাতে পারব।'
আপনাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এ কমিশনার বলেন, 'এখন বিষয়টি হচ্ছে সরকারের সঙ্গে আমাদের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসনিক যে যোগাযোগগুলো হয়ে থাকে, সেই জায়গা থেকে একটু আগেও আমি খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ওরকম অফিশিয়াল কোনো চিঠিপত্র বা যোগাযোগ হয়নি।'
