লক্ষ্মীপুরে চাদাঁবাজির অভিযোগে ২৬ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিলেন নবনির্বাচিত এমপি নিজান
দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বিএনপির ২৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নির্দেশনায় এই মামলাগুলো করা হয়।
রামগতি থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক ভিডিও এবং অডিও বার্তায় নবনির্বাচিত এমপি নিজেই মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসময় তিনি আইনজীবীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান, এই আসামিদের যেন কোনো ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা না হয়।
এমপির নির্দেশনার পর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— চর রমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী বেলাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহরিয়ার হান্নান, ইউপি সদস্য সুমন উদ্দিন, চর রমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিরাজ হোসেন এবং চর পোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। এছাড়া যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আরও বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীও এই মামলার আসামি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা, রামদয়াল বাজার এবং আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুর চর সুজনগ্রাম এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের একদল নেতা-কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে চড়াও হয়। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা মালিকদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চক্রটি চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ছিদ্দিক উল্লাহর ইটভাটায় গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে তারা ইটভাটার শ্রমিকদের মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং মালিককে হত্যার হুমকি দেয়।
একই দিনে চর আলগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাব্বি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হান এবং ওয়ার্ড সভাপতি মো. আশিকের নেতৃত্বে ২৫ জনের একটি দল রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়। এসময় তারা রামদয়াল বাজারে ব্যবসায়ী মনিরের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে।
এ বিষয়ে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, 'রামগতিতে কিছু ঘটনা ঘটেছে, আমি নিজেই ভুক্তভোগীদের পক্ষে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি। রামগতি-কমলনগরের সর্বস্তরের মানুষের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। অপরাধীদের ছাড় নয়। এছাড়া দোষীদের বহিষ্কারসহ যে কোনো শাস্তির আওতায় আনা হবে।'
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, মামলার পর অভিযান চালিয়ে মিরাজ ও রিয়াজ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ইতোমধ্যেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্যে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান দল-মত নির্বিশেষে বেশ জনপ্রিয়। নির্বাচনি ইশতেহারে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন— নির্বাচিত হলে সবার আগে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করবেন। জয়ের পরপরই নিজের দলের অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তিনি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করলেন।
