রামপুরায় হত্যা ও নির্যাতন মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৫ পুলিশ সদস্যের মামলার রায় ৪ মার্চ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একজনকে গুলি করে আহত ও দুজনকে নিহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে করা এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ৪ মার্চ ঘোষণা করা হবে।
আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন। সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
মামলার আসামিদের মধ্যে রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তবে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া এখনও পলাতক রয়েছেন।
এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওইদিন শুনানিতে এএসআই চঞ্চলের আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন তার মক্কেলের খালাস দাবি করেন।
অন্যদিকে, প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়—সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ সকল নথিপত্রে এ মামলার পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই যুক্তিতে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করে প্রসিকিউশন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণের জন্য ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি ধার্য রেখেছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। পুলিশ পিছু নিয়ে সেখানে গেলে তিনি ভবনের ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। ওই অবস্থায় এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নামের আরও দুজন শহীদ হন।
