চট্টগ্রামে ১৪টিতে বিএনপি, দুটিতে জামায়াত নির্বাচিত, ১০ আসনে নতুন মুখ
চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে অনেকটা ছিটকে পড়েছে জামায়াত। নগর ও উত্তর জেলার সবকটি আসনসহ মোট ১৪টি আসনে নির্বাচিত হয়ে পুরনো কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে বিএনপি।
অপরদিকে, জামায়াত নিজেদের পুরনো দুটি দূর্গের বাইরে যেতে পারেনি। আর ১৬টি আসনের ১০টিতে নতুন মুখ নির্বাচিত হয়েছেন।
ভোটের আগে নির্বাচনের মাঠ জমে উঠলেও শেষ পর্যন্ত পুরাতন চিত্রই দৃশ্যমান হয়েছে।
অপরদিকে, বিএনপি জোট থেকে বের হয়ে জামায়াত জোটে যাওয়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নিজের আসনে ঘর ছাড়া। ১৪টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয় নিশ্চিত করলেও আদালতের চলমান বিচার প্রক্রিয়ার কারণে দুটিতে দলটির প্রার্থী ফলাফল স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
নগরের ও উত্তর জেলার সব আসনে বিএনপি
বিএনপির একসময়ের দূর্গ চট্টগ্রাম-০১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন (ধানের শীষ) ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর ছাইফুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-০২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের বিচার প্রক্রিয়া বাকি। এজন্য ফলাফল স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
তবে অনানুষ্ঠানিক সূত্রের তথ্যমতে, এই আসনে ধানের শীষের সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।
চট্টগ্রাম-০৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ৭৩ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আলাউদ্দীন সিকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৬৬২ ভোট।
চট্টগ্রাম-০৪ (সীতাকুণ্ড ও সিটির আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী প্রার্থিতা বৈধ উচ্চ আদালত বৈধ ঘোষণা করলেও আপিল বিভাগের বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও বাকি। এজন্য এ আসনের ফলাফলও স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
তবে অনানুষ্ঠানিক সূত্রের তথ্যমতে, এই আসনে বিএনপির আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-০৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. নাসির উদ্দীন মুনির পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-০৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী (মোমবাতি) পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট।
চট্টগ্রাম-০৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-০৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপি এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. আবু নাসের (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫২ হাজার ৫৬৪ ভোট।
চট্টগ্রাম-০৯ (বাকলিয়া-কোতোয়ালী-চকবাজার) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী-খুলশী) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন জামায়াতে শামসুজ্জমান হেলালী পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৯১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৬৮১ ভোট।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির এনামুল হক এনাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (মোমবাতি) পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট। এ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০৬ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির সরোয়ার জামাল নিজাম ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান (মোমবাতি) পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট। আর জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩০ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদ ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এলডিপির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
প্রায় এক হাজারের মতো ভোটের ব্যবধানে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের আসনে তার ছেলে হেরে গেছেন।
দক্ষিণ জেলার দুই আসনে জামায়াত
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে জামায়াতে প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতে প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট।
