বিএনপির জয়কে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাবক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনেকটা বিতর্কহীনভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মতো একটি উদার মধ্যপন্থী দল নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিএনপিকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ-র সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'নির্বাচন হবে কি না, কিংবা হলেও তা সুন্দরভাবে হবে কি না; সেই আশঙ্কা থেকে আমরা নির্ভার হলাম। এছাড়া কট্টর ইসলামপন্থীর বদলে বিএনপির মতো একটি উদার মধ্যপন্থী দল নির্বাচনে জেতা দেশে এবং বাইরে ব্যবসায়ীসহ সবার মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'বহির্বিশ্বে এই ফল একটি বড় ধরনের কনফিডেন্স তৈরি করবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরি ছিল।'
পারভেজ বলেন, 'যেনতেন নির্বাচন হলে হয়তো এক বা দেড় বছরের মধ্যে সরকারকে সংকটে পড়তে হতো। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ায় মনে হচ্ছে সরকার তার পুরো মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে।'
তবে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, 'মব কালচার বন্ধ করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। চাঁদাবাজি ও দখলবাজি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।'
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকতে যাচ্ছে। ফলে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার চাপের মুখে থাকবে।
একই ধরণের অভিমত ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি এবং নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ-র এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান। তিনি মনে করেন, সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং একটি উদারপন্থী দলের জয় বিদেশিদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
ফজলে শামীম এহসান বলেন, 'নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে এবং ব্যাপক সহিংসতা হলে নতুন সরকার শুরু থেকেই চাপের মুখে থাকত, যা ব্যবসায়ীদের মনে আস্থা তৈরি করত না। কিন্তু একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন।'
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি আস্থা অর্জন করতে হলে নতুন সরকার চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করে, তার ওপর নজর রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, 'মব কালচারের মতো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চলে না। এখন আমাদের প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।'
ব্যবসায়ী মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
