নির্বাচনে ফলাফল টেম্পারিং ও পরিকল্পিত জালিয়াতির অভিযোগ এনসিপির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক আকারে ফলাফল টেম্পারিং [কারচুপি] ও সুপরিকল্পিত জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি দাবি করেছেন, বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের আসনগুলোতে ফলাফল বদলে দিতে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও প্রশাসনিক কারসাজি চালানো হচ্ছে।
আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৭ আসনের পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, 'আমরা অত্যন্ত শঙ্কার সাথে লক্ষ্য করছি যে, কিছু কিছু আসনে ফলাফল টেম্পারিং করার চেষ্টা হচ্ছে। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আসনে ২০-২২ হাজার ভোটের ব্যবধান বজায় থাকলেও হঠাৎ করেই কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।'
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, 'ঢাকা-১৭ আসনে ৫০টি কেন্দ্রের গণনা শেষ না হতেই তড়িঘড়ি করে বিজয় ঘোষণা করা হয়েছে। আবার ঢাকা-১৯ আসনে আমাদের প্রার্থীর ৪৬০ ভোটকে বিএনপির প্রার্থীর ঝুলিতে এবং তাদের ৬০০ ভোটকে আমাদের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত হাস্যকর ও চাইল্ডিশ ওয়েতে করা হচ্ছে।'
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ ঢাকা-৮ আসনের একটি কল রেকর্ড ফাঁসের দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে জেতাতে বাতিল ভোটগুলোকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, 'আরপিও অনুযায়ী মার্কার বক্সে সিল না পড়লে সেই ভোট বাতিল। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসি সচিবের নাম ভাঙিয়ে সেই বাতিল ভোটগুলোকে ধানের শীষের পক্ষে যোগ করেছেন।'
ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'যেসব কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন, সেগুলোর ফলাফল সন্ধ্যা ৭টায় গণনা শেষ হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তারা রাত ১২টা পর্যন্ত তা ঝুলিয়ে রেখেছেন। এটি একটি কৃত্রিম ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা যাতে মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যায়।'
আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেন, 'সুষ্ঠু নির্বাচনে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, জাতীয় নাগরিক পার্টি তাকে সহায়তা করবে। কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে সরকার গঠিত হলে দেশে আস্থার সংকট বা কনফিডেন্সের শূন্যতা তৈরি হবে।'
এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'এই অভিযোগগুলো খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত ওই আসনগুলোর ফলাফল যেন ঘোষণা করা না হয়।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'ঢাকা-১১ আসনে আমাদের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম প্রায় ৬,০০০ ভোটে এগিয়ে থাকলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা মাত্র ১,৫০০ ভোটের ব্যবধান দেখাচ্ছেন। আমরা এই আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাচ্ছি।'
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও ফলাফল টেম্পারিংয়ের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, জোটগতভাবে আলোচনা করে তারা খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
