নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে ৮ আনসার সদস্য আহত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে সারাদেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আটজন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া জালভোট দিতে আসা সাত জনকে আটক করেছে বাহিনীটি। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বাহিনীটি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার, পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাহিনীর মোট ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্য-সদস্যা এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন—যা অংশগ্রহণকারী সব বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এতে আরও বলা হয়, দেশব্যাপী যেকোনো ধরনের হুমকি, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা প্রতিহত করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। দায়িত্ব পালনকালে গোপালগঞ্জে ২ জন, খাগড়াছড়িতে ৩ জন এবং গাইবান্ধায় ৩ জন সদস্য আহত হন, যা তাদের আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের সাক্ষ্য বহন করে।
জাল ভোট প্রদান প্রতিরোধে বাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্য ছিল জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে ১৯০টিরও বেশি ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দিতে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জাল ভোট প্রদানের উদ্দেশ্যে আসা ৭ জনকে আনসার-ভিডিপি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক করা হয়।
আহতদের বিস্তারিত তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেকশন কমান্ডার ও সহকারী সেকশন কমান্ডার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোট ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। গোপালগঞ্জ সদরস্থ রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণে ২ জন আনসার সদস্য আহত হন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ১ হাজার ৪০০ অব্যব্যহৃত ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করতে গিয়ে ১০ জন আনসার ও পুলিশ সদস্য আহত হন। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার খেদাছড়া ডিপি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে আরও ৩ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য আহত হন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন চলাকালে এন্ড ইউজারদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে সারাদেশে প্রায় ৭১৫টি বিশৃঙ্খলার ঘটনায় স্ট্রাইকিং ও টহল টিম দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এছাড়া ২০০টিরও বেশি সংঘর্ষের ঘটনায় আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নোয়াখালী-৫, ফেনী-১, মেহেরপুর-১, দিনাজপুর-৩, সিলেট-১ ও নারায়ণগঞ্জ-১সহ বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা এন্ড ইউজারের তথ্য প্রেরণের ফলে দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়, ফলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেছে।
এতে আরও বলা হয়, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের ভোট প্রদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা হলে এন্ড ইউজারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে টহল টিম দ্রুত উপস্থিত হয়ে ভোটগ্রহণ পুনরায় নির্বিঘ্ন করে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৮২ নম্বর কেন্দ্রে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের ১১৯ আরাজী গুঞ্জনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
