বগুড়ায় দিনভর ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন, বিকেলে ফাঁকা
বগুড়ায় দিন গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতিও কমেছে। সকালের দিকে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও বিকেলের দিকে কেন্দ্রগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। জেলা রিটার্নিং কার্যালয় বলছে, এবার ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক।
এদিন সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর প্রথম সাড়ে ৬ ঘণ্টায় জেলার সাতটি আসনে গড়ে ৫৩.১৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে এ হিসাবের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের ভোট অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন জানান, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ভোটারদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক।
আজ বিকেল ৪টার দিকে বগুড়া-৭ আসনের ভোটকেন্দ্র সুলতানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে যান আসাফ-উদ-দৌলা নিওন। তিনি বলেন, সকালের দিকে বেশ ভোটার উপস্থিতি ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও কমেছে। এখন লাইনে লোকজন কম। এই সময়ে ভোট দিতে গেলে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়া-৬ আসনের কেন্দ্র রায় মাঝিড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন আব্দুর রহমান। এই ভোটার বলেন, 'দুপুরের আগে ভিড় বেশি হবে জেনেই আমি বিকেলে এসেছি। আগের নির্বাচনগুলোতে অভিযোগ ছিল একজনের ভোট অন্যজন দিয়েছেন। কিন্তু এবার আমি বিকেল এসেও আমার ভোট আমিই দিলাম। এটিই দেশের নাগরিকের সম্মান। ভোট দিয়ে বেশ ভালো লাগছে।'
বগুড়ার সদরের নিশিন্দারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন মেহেরুল হাসান। তিনি বলেন, 'তখন কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটার ছিল। নারী ভোটারেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষণীয়। লাইনও ছিল বেশ দীর্ঘ।'
বগুড়ার সদরের নিশিন্দারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, আজ সকাল থেকে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ছিল। দুপুরে একটু কম ছিল। পরে বিকেলে বেড়েছে। কিন্তু শেষ সময়ে কম হবে এটাই স্বাভাবিক।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বগুড়া জেলায় ১২টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভা রয়েছে। সাতটি আসনে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন বলে জানান বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান।
