নির্বাচনি প্রচারণায় ২০ দিনে ২৬ জেলায় সফর তারেক রহমানের
আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণা। এ প্রচারণা শুরু হয় গত ২২ জানুয়ারি। ২০ দিনের এ নির্বাচনী প্রচারণায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৭টি সফরের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এসময়ে ২৬ জেলায় ৩০টির মত নির্বাচনি সমাবেশ করেন তিনি। এছাড়াও এসময় ঢাকায় ২০টির বেশি সমাবেশে যোগ দেন।
সিলেট থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। ২২ জানুয়ারি প্রথম সফরে টানা ১৬ ঘণ্টায় সাতটি জেলায় নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন। এসব জেলা হচ্ছে- সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ।
২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সফরে চার জেলায় ৬টি সমাবেশ করেন। চট্টগ্রাম, ফেনী সমাবেশের পর কুমিল্লায় তিনটি সমাবেশ করেন। এসফরে আবারো নারায়ণগঞ্জে সমাবশে করেন তিনি।
২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহ সফর করেন তারেক রহমান। এ সফরে তিনি ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও রাজধানী উত্তরার তিনটি পৃথক জনসভায় ভাষণ দেন।২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেন। ২ ফেব্রুয়ারি খুলনা ও যশোর; ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ও ফরিদপুর এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারী সফর করেন তিনি।
এসব সফরে দেশ নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। সরকার গঠন করতে পারলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি
ফ্যামিলি কার্ড
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নারীর ক্ষমতায়নে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তারেক রহমান। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে বলে মনে করেন তিনি।
কৃষক কার্ড
তারেক রহমান জানান, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে 'কৃষক কার্ড'-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তের ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষী, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিখাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
মিড-ডে মিল
আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং 'মিড-ডে মিল' চালু করা হবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি
তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
ক্রীড়াকে জীবিকার মাধ্যম বানানো
ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তারেক রহমান।
খাল খনন ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
ধর্মীয় ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানান তারেক রহমান।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং 'মেড ইন বাংলাদেশ' পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি দমনে অগ্রাধিকার
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা দিতে হবে, যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে চাকরি-বাকরি সবকিছু নির্বিঘ্নে করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে—তখন আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতেও সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
দুর্নীতি দমনের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে আগামীতে বিএনপির সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ দেশের মানুষের কাছে এই দুটি বিষয়ই আমাদের কমিটমেন্ট।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি দমনে কঠোরভাবে নজর দেয়ার কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন- এই দুটি বিষয় বাংলাদেশের মানুষকে বহুকিছু থেকে বঞ্চিত করেছে। এই দুটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ একমাত্র বিএনপিই যে সফলভাবে করতে পারে, তা বিএনপি অতীতে প্রমাণ করে দেখিয়েছে।
