অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো চাপ অনুভব করিনি: গভর্নর
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকালে সরকারের থেকে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করেননি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, 'অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গভর্নরের দায়িত্ব পালন করার সময় কোনো মহল থেকে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করিনি, বরং অপারেশন ফ্রিডম ছিল এবং কোন ধরনের হস্তক্ষেপ হয়নি। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।'
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
এসময় গভর্নর বলেন, 'তবে কয়েকটি আইন সরকারের কাছে জমা দেওয়ার পরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে একটি ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার। অক্টোবর মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার চূড়ান্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল, যথেষ্ট সময় থাকার পরেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে এটা একটি ব্যর্থতাই বলা যায়। কারণ এটা হওয়া উচিত ছিল।'
তিনি বলেন, 'দ্বিতীয়টি হলো ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট। এটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা আইন, আমরা মনে করেছিলাম বর্তমান সরকার এটা বাস্তবায়ন করে যেতে পারবে, তবে সেটা হয়নি। তাই আমরা আশা করব যেই সরকারই আসুক না কেন, নির্বাচনি প্রচারের সময় আর্থিক উন্নয়নে যে ইশতেহার দিয়েছিল, সেটার ওপর যেন তাদের সম্মান থাকে।'
গভর্নর বলেন, 'আমরা পরবর্তী সরকারের কাছে এ বিষয়টি উপস্থাপন করব। কারণ জাতির স্বার্থে হলেও এটা করা উচিত। এটা বাস্তবায়ন করতে না পারলে অতীতে যেভাবে ব্যাংক খাতকে অপব্যবহার ও লুটপাট করা হয়েছে, তা ফিরে আসতে পারে।'
তিনি বলেন, 'রাজনীতিবিদরা চায় স্বল্পমেয়াদে দ্রুত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব হচ্ছে টেকসইভাবে উন্নয়ন করা। যেটা আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখতে পাই। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ যেন না আসে, অর্থনীতির যে শৃঙ্খলা তা যেন হারিয়ে না যায়।'
তিনি আরও বলেন, 'শৃঙ্খলা এখনও পুরোপুরি আসেনি, কিন্তু সেটা আসার পর যদি আমরা হারিয়ে ফেলি; তাহলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক হবে।'
আহসান এইচ মনসুর বলেন, 'সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে কেনা হয়েছে। তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার ওপর অর্থ বাজারে গিয়েছে। এটা কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বিল্ড আপ হয়েছে। আমরা কি আইএমএফের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকব? না। এমনকি রিজার্ভ বিল্ডিংয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইএমএফের ওপর ডিপেন্ডেন্ট নয়।'
